জলে কুমির, ডাঙায় বাঘের সঙ্গে লড়াই, জমজমাট থ্রিলার ফিরল সোনাদার সঙ্গে
এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
সোনাদা (আবির চট্টোপাধ্যায়) ফের গুপ্তধনের খোঁজে। তবে এ বার স্বেচ্ছায় নয়, বাধ্য হয়ে। আবির (অর্জুন চক্রবর্তী) আর ঝিনুককে (ইশা সাহা) ‘দুষ্টু’ লোকদের হাত থেকে রক্ষা করতেই সোনাদার এই উদ্যোগ। এ বারে জলে কুমির, ডাঙায় বাঘের সঙ্গে লড়াই করতে হয় সোনাদাকে। আর সঙ্গে...নাহ! থাক। গল্পটা বলে দিলে তো ফিল্মটা দেখার মজাই থাকবে না আর। আবার এক জমজমাট থ্রিলার দেখতে পাবেন দর্শকরা, শুধু এটুকু বলা যেতে পারে। সোনাদার বুদ্ধির দৌড়েরও সাক্ষী থাকবেন তাঁরা।
সোনাদা ছাড়া এই গুপ্তধনের সন্ধানই সম্ভব নয়। তাই শুরু করা যাক আবিরকে দিয়েই। আবিরের অভিনয় নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। আর গোয়েন্দা চরিত্রে তিনি কেমন, তাও দর্শকদের জানা। কিন্তু যে কথাটা না লিখলেই নয়, তাঁকে দারুণ দেখতে লেগেছে এই ছবিতে। প্রথম দৃশ্যে যখন সোনাদাকে শুটিং রেঞ্জে দেখা যায়, বাঙালি দর্শক বুঝতে পারেন, এর কাঁধে ভর দিয়েই ফিল্মটা তরতর করে এগিয়ে যাবে। আর সেই ভাবনাটা যে ঠিক, তা বোঝা যায় পুরো ফিল্মটা দেখলেই। ভালো লাগে অর্জুন, ইশাকে। এই তিনজনের কেমিস্ট্রি গোয়েন্দা গল্পকে আরও মজবুত করে। রজতাভ দত্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়কেও ভালো লাগে ফিল্মে। খুব ছিমছাম একটা গল্প নিয়ে ভালো ছবি তৈরি করেছেন পরিচালক। ফিল্মটি ত্রুটিমুক্ত নয়। ভিএফএক্স–এর কাজ অনেক ভালো হতে পারত। এ রকম আরও ছোটখাটো নানা খুঁত ধরা যেতে পারে।
তবে নিক্তিতে বিচার করলে বিনোদনের পাল্লাই ভারী হবে। ছবিটা দেখতে শুরু করলে সুন্দর সময় কেটে যায়। বারবার ঘড়ি দেখার প্রয়োজন পড়ে না। ছোটদের যে ভালো লাগবে এই ফিল্ম, তা বেশ বোঝা যায়। গরমের ছুটির মরশুমে এই ছবি ভালো ব্যবসা করবে, এমন আশা করা যেতেই পারে। সুন্দরবনে ছবির অনেকটা শুটিং হয়েছে। লোকেশনটাকেও একটা চরিত্রে পরিণত করতে সফল হয়েছেন সিনেমাটোগ্রাফার–পরিচালক। তাই বড় পর্দায় ছবিটা দেখতে ভালোই লাগবে। গল্প, অভিনয়, পরিচালনা, সিনেমাটোগ্রাফি— নিরাশ করবে না কোনও বিভাগই। তবে সব শেষে পরিচালকের কাছে একটাই অনুরোধ, এমন সুদর্শন গোয়েন্দার বারবার অনস্ক্রিন বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে আসবেন না প্লিজ়। মন খারাপ হয়ে যায় যে!