টলিপাড়ার অন্দরের রাজনীতি বা ‘ব্যান কালচার’— কোনও কিছুই দমাতে পারল না মেগাস্টার দেবকে। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন অভিনেতাকেও যখন ইন্ডাস্ট্রির জটিলতায় বাদ পড়তে হয়েছিল, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে দেব প্রমাণ করে দিলেন কেন তাঁকে ‘রাজার রাজা’ বলা হয়। ১৪ মে, বৃহস্পতিবার টিম ‘দেশু ৭’ (Deshu 7) নিয়ে শুটিং ফ্লোরে ফিরলেন দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনির্বাণের উপস্থিতিতে সিলমোহর দিয়ে দেব লিখেছেন, ‘শুটিং মোড অন’।
‘রঘু ডাকাত’-এ অনির্বাণের অনবদ্য পারফর্ম্যান্সের পর থেকেই দেবের লক্ষ্য ছিল তাঁর পরবর্তী ছবি ‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণকে রাখা। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের অসহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও দেব তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। প্রিয় অভিনেতার প্রত্যাবর্তনে ভক্তরাও উচ্ছ্বসিত এবং দেবের এই সাহসী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনীতির পাশাপাশি টলিউডের সমীকরণও বদলেছে। নতুন দায়িত্বভার পেয়েছেন পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই পালাবদলের আবহেই নিজের নতুন প্রোডাকশনের কাজ শুরু করলেন দেব।
কয়েক দিন আগেই ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্যান কালচার’ নির্মূল করতে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশে দেবের দেওয়া ‘৭২ ঘণ্টা চ্যালেঞ্জ’ ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সঠিক বিচারের দাবিতে যখন আর্টিস্ট ফোরাম সরব, তখন দেবের এই পোস্টটি নিয়ে প্রসেনজিৎ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বুম্বাদা বলেছিলেন, ‘পাবলিক ফোরামে এই ধরণের ৭২ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ কতটা যুক্তিসঙ্গত আমি জানি না।’ তবে সমালোচনা ও ‘সুবিধাবাদী’ তকমা গায়ে মেখেও দমে যাননি দেব। বৃহস্পতিবার অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নিয়ে শুটিং শুরু হওয়া এক দিক থেকে দেবের জেদ ও নৈতিক জয়ের এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল টলিউডের ইতিহাসে।