• দীর্ঘ বিরতি নিতে হয়েছিল বলে আফসোস নেই: অর্জুন চক্রবর্তী
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • আগামী ছবিতে রাজার ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। চরিত্রটার জন্য প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিনেতা বলেন, ‘ক্যামেরাটা সামনে থাকলে অভিনয় এমনিই বেরিয়ে আসে। এই ছবির প্রস্তাব যখন পাই, আমার স্ত্রী বলেছিলেন, চরিত্রটা আমার মতোই। আলাদা করে অভিনয় করা প্রয়োজনই পড়বে না। এমন চরিত্রে আমি আগে কখনও অভিনয় করিনি।’ দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি নিতে হয়েছিল কেন? উত্তরে তিনি বলছেন, ‘এই কয়েক বছরে আমি একটা কথা বুঝেছি। বাংলা ছবিতে যেমন কাজ হচ্ছিল, তাতে বোধহয় আমার জন্য চরিত্র তৈরি করা সম্ভব ছিল না। শিবু (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) আমাকে অনেকবার বলেছিল, ‘তোমাকে নিয়ে কাজ করতে চাই। কিন্তু তেমন কোনও চরিত্র খুঁজে পাচ্ছি না।’ একটা দীর্ঘ বিরতি নিতে হয়েছিল বলে যে আমার ভীষণ রকম আফসোস আছে তা নয়। অভিনয়টা আমার পেশা। আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই ভালো করে কাজ করার চেষ্টা করি।’

    অভিনয়ের হাতেখড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কেরিয়ার শুরুর সময়ে অভিনয় যে আলাদা করে একটা গুরুত্বপূর্ণ পেশা হতে পারে, সেটা তেমন ভাবে কেউ ভেবে দেখতেন না। আমি তখন গুলজ়ার–এর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি। মুম্বইয়ে ভয়ানক বৃষ্টির কারণে একজন অভিনেতা শুটিংয়ে এসে পৌঁছতে পারেননি। তখন গুলজ়ার সাহাব আমাকে বললেন, ‘সব ডায়লগ মনে আছে? তা হলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ো।’ সেই থেকে শুরু। ওই চরিত্রটা দেখেই দেবেন বর্মা আমাকে ওঁর পরের ছবির জন্য কাস্টিং করলেন পদ্মিনী কোলাপুরির বিপরীতে। তার পর বেশ কয়েকটা কাজ করে কলকাতায় ফিরি। কারণ মৃণালদার (সেন) ডাক পেয়ে গিয়েছিলাম ততদিনে।’ মুম্বই ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসার কারণে কোন আফসোস হয়? ‘একেবারে হয় না বললে মিথ্যা বলা হবে। তবে কলকাতাও আমায় অনেক কিছু দিয়েছে। তাই দুটো শহরকেই আমি কখনও ভুলতে পারব না’, বক্তব্য অভিনেতার। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের টানাপড়েন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলছেন, ‘আমি এসবের জন্য ভীষণ রকম মিসফিট। আমার মনে হয় রাজনীতি বা এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে আমি অবগত নই।’

    শেষ দেখা কোন ছবিটা ভীষণ ভাবে মনে থেকে গিয়েছে? ‘‘ধুরন্ধর’ আমার দারুণ লেগেছে, সিনেমা তো এ রকমই হওয়া উচিত’ বলছেন তিনি। গত কয়েক বছরে মনে রাখার মতো কোনও বাংলা সিনেমার নাম মনে পড়ছে? কিছুটা থেমে অভিনেতা বললেন, ‘বাংলা ছবির বক্স অফিসের জন্য শুধু নির্মাতারা নন, দর্শকরাও সমান ভাবে দায়ী। তাঁদের মননশীলতা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এসেছে।’
  • Link to this news (এই সময়)