• ‘স্বামী অসুস্থ, ছোট ছোট তিনটে মেয়ে আছে...’, অভিযুক্তদের কাছে কাকুতি-মিনতি দিল্লির বাসে নির্যাতিতার
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • বাড়িতে ছোট ছোট তিনটে মেয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। অভিযুক্তদের কাছে হাতজোড় করে এভাবেই কাকুতি-মিনতি করেছিলেন, কিন্তু লাভ হয়নি। বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে এমনই দাবি করেছেন দিল্লির বাসে গণধর্ষিতা তরুণী। ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাসের চালক এবং কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

    নির্যাতিতার স্বামী অসুস্থ। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে। ছোট ছোট তিনটে মেয়ে রয়েছে তাঁর। একজনের বয়স ৪ বছর, একজনের ৬ বছর আর একজনের ৯ বছর বয়স। বৃহস্পতিবার সুলতানপুরিতে ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। ফেরার পথে ই-রিকশা করে আউটার রিং রোডের সরস্বতী বিহার বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত আসেন।

    স্ট্যান্ড থেকে একটি প্রাইভেট বাসে ওঠেন নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগ, ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চালক বাস চালাতে শুরু করে দেন। সেই সময়ে তিনি ছাড়া বাসে চালক এবং আরও দু’জন ছিলেন। তাদের একজন মহিলাকে ঠেলে বাসের পিছন দিকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, তার পরেই ওই ব্যক্তি ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর উপরে। সেই সময়ে অভিযুক্তদের হাতজোড় করে কাকুতি মিনতি করেছিলেন নির্যাতিতা। তাঁর কথায়, ‘ওদের বলেছিলাম, বাড়িতে আমার ছোট ছোট তিনটে মেয়ে রয়েছে। স্বামী অসুস্থ। আমাকে দয়া করে ছেড়ে দিন।’

    কিন্তু লাভ হয়নি কোনও। মহিলা বলেন, ‘নাংলোই স্টেশনের কাছে বাস দাঁড়ায়। তার পরে চালকও ধর্ষণ করে আমাকে।’ তখনও তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের কাছে কাতর আবেদন জানাচ্ছেন তরুণী। তিনি বলেন, ‘শেষে ওদের বলি, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি কোনও পদক্ষেপ করব না। তখন ওরা আমাকে ছেড়ে দেয়।’ তরুণীকে ছেড়ে পালান বাসের চালক আর কন্ডাক্টর। আর দেরি করেননি নির্যাতিতা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে ফোন করেন তিনি।

    সেই সময়ে অভিযুক্তদের একজন সেখানেই ছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়েই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার পর রক্তাক্ত অবস্থায় নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে পিতমপুরার একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। চিকিৎসকেরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু মহিলা বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ। মেয়েরা বাড়িতে অপেক্ষা করছে। তাই ভর্তি হতে পারিনি।’

    ইতিমধ্যে বাসটিকেও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। বাসে সেই সময়ে আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, ঘটনাস্থল কোথায়, বাসের রুট কী ছিল, সিসিটিভি ফুটেজে কী ধরা পড়েছে— সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদেরও। ফরেনসিক রিপোর্ট, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)