এই সময়, বালুরঘাট: পূর্বতন সরকারের আমলে আবাস যোজনা ও শৌচাগার তৈরিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। তাই এখন আগের প্রকল্পের বকেয়া কোনও অর্থ প্রদান করা যাবে না। সামাজিক কাজ বাদে আগের কোনও কাজও এখন করা যাবে না। নতুন সরকার আগে সবটা খতিয়ে দেখবে, তারপরেই বকেয়া অর্থ মেটানো হবে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ অন্য আধিকারিকদের এই বার্তা দিলেন বিজেপি বিধায়করা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বালুরঘাট জেলা প্রশাসনিক ভবনের আত্রেয়ী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রমানিয়ান টি, জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। এছাড়া ছিলেন বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায়, গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় এবং কুশমন্ডির বিধায়ক তাপসচন্দ্র রায়। এদিনের বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা ও অরক্ষিত অঞ্চলে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয় হয়েছে। বালুরঘাট বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় বলেন, 'আমার বিধানসভা এলাকায় সব থেকে বেশি অরক্ষিত এলাকা রয়েছে। সেই জায়গায় দ্রুত কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজন জমি দ্রুত বিএসএফকে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে।' গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় বলেন, 'স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় মাত্র ২০ শতাংশ শৌচাগার নির্মাণের কাজ হয়েছে। অথচ এই প্রকল্পে প্রচুর পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। একই অবস্থা আবাস যোজনার কাজেও। জেলায় আবাস যোজনাতেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাই আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগের সরকারের সামাজিক কাজ বাদে বাকি সব এখন বন্ধ থাকবে। কোনও প্রকল্পের বকেয়া পেমেন্ট কাউকেই করা যাবে না।'
জেলাশাসক বালা সুব্রমানিয়ান টি বলেন, 'জেলায় কোনওরকম অবৈধ কাজ করা যাবে না। খবর পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা বিএসএফের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছি।'