প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত আশঙ্কা সত্যি করে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম তিন টাকা বাড়িয়েছে তেল কোম্পানিগুলি। শুক্রবার ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে এই নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সরাসরি বলে দিলেন, ‘আগে কষ্ট করলে, পরে কষ্ট কম হবে।’ কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে তৃণমূলকে তোপ দাগেন তিনি।
পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। দিলীপের কথায়, ‘যে কারণেই দাম বাড়ুক না কেন, তা আমাদের হাতে নেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। অনেক দিন পরে কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্য হয়ে দাম বাড়াল।’ তবে দাম বাড়লেও আশঙ্কার কিছুই নেই বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। ৬০ দিনের পেট্রল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সেই নিয়ে দিলীপ বলেন, ‘অভাব নেই। তবে ক্রাইসিস আছে। তাই আগে থেকেই সাবধান হতে হবে।’
পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে জ্বালানি বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন মোদী। তেলঙ্গানার একটি সভা থেকে পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল ব্যবহারে রাশ টানার পাশাপাশি আগামী এক বছর বিদেশ ভ্রমণ এবং সোনা কেনা বন্ধ রাখার কথাও শোনা গিয়েছে মোদীর মুখে। এই পরিস্থিতিকে কোভিডের সঙ্গে তুলনা করেন দিলীপ। তাঁর কথায়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য রয়েছে। তাই তিনি সতর্ক করেছেন। কোভিডের সময়েও তিনি আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।’
দাম বৃদ্ধি নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর পাশে দাঁড়ান দিলীপ। তিনি সাফ বলেন, ‘অনেক দিন দাম বাড়ানো হয়নি। তার জন্যই তেল কোম্পানিগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান করছিল। তারও একটা সীমা রয়েছে। তাদেরও ব্যবসা চালাতে হয়।’
প্রায় দশ ঘণ্টা জেরার পরে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এই নিয়ে তৃণমূলকে তোপ দেগে দিলীপ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যত বিশ্বস্ত লোক রয়েছেন, সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি রাজনীতিবিদদের চোর বানিয়েছেন, আর চোরেদের রাজনীতিবিদ।’ তপসিয়ার চামড়া কারখানা বেআইনি বলে বুলডোজ়ার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিলীপ অবশ্য সরাসরি বলে দিলেন, ‘আদালত খোলা রয়েছে। কারও ভুল মনে হলে যেতেই পারেন।’