এই সময়, শিলিগুড়ি: মাদকের খপ্পরে গোটা উত্তরবঙ্গ। বিভিন্ন সময়ে পুলিশি অভিযানে মাদক উদ্ধার হলেও উত্তরবঙ্গ জুড়ে জাঁকিয়ে বসা এই কারবার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট 'অ্যান্টি নারকোটিক টাস্ক ফোর্স' তৈরি করল। আট জন পুলিশ আধিকারিক নিয়ে তৈরি এই টিমের মূল কাজই হবে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দিনভর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। বুধবার পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার নির্দেশে এই টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়। আপাতত কমিশনারেটে বাছাই করা ৭-৮ জনের একটি টিম কাজ শুরু করেছে। আগামীতে একজন এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিককে মাথায় রেখে টাস্ক ফোর্স সাজিয়ে তোলা হবে। গোটা বিষয়টি কমিশনারেট থেকেই পরিচালিত হবে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (জোন-১) রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, 'কমিশনারেটে আগে এ ধরনের উইং ছিল না। বুধবার টাস্ক ফোর্স গঠিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু করেছে। এই টাস্ক ফোর্স কেবলমাত্র মাদক সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখবে।'
পৃথক ভাবে মাদকের বেআইনি ব্যবসাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কী? কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, এর পিছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আশঙ্কা। একটা সময়ে ভারতে মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হতো পাঞ্জাব থেকে। পাকিস্তান থেকে মাদক ভারতে ঢুকে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। লকডাউনের সময়ে আচমকা মাদকের ব্যবসা পাকিস্তান সীমান্ত থেকে সরে আসে উত্তর পূর্বাঞ্চলে। তার পরেই শিলিগুড়ি যেন মাদকের ঘাঁটি হয়ে ওঠে। মায়ানমার থেকে মণিপুর হয়ে শিলিগুড়ি, কখনও বাংলাদেশ থেকে কোচবিহার অথবা মালদা হয়ে শিলিগুড়িতে মাদক ঢুকছে। শিলিগুড়ির প্রায় প্রতিটি গ্রামেই ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের ব্যবসা। একই সমস্যা পাহাড়ে। শিলিগুড়িকে মাদকের কারবারিরা বেছে নেওয়ায় পিছনে 'চিকেন নেক'কে অস্থির করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।
গত কয়েক মাসে এমন একাধিক রিপোর্ট পৌঁছেছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে। সেনা এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী থেকেও এ ব্যাপারে রিপোর্ট মেলার পরে সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্য সরকার। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মাদক কারবারের জন্য ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন অঞ্চলে একাধিক স্লিপার সেলের ধাঁচে কারবারিরা বাহিনী তৈরি করছে। মূলত, চল্লিশের নীচে বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং কলেজ পড়ুয়াদের গ্রাহক হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে। তরুণী ও যুবতীদের বাড়তি আয়ের প্রলোভন দিয়ে দুষ্কৃতীরা এই কারবারে যুক্ত করছে। প্রথমে বন্ধুত্বের টোপ দিয়ে নেশায় আসক্ত করানো, পরে নেশা সামগ্রী জোগানের জন্য মাদক বিক্রিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট অবশ্য লকডাউনের সময় থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করে। তবে সেটা আর পাঁচটা আপরাধের সঙ্গেই দেখা হতো। এ বার টাস্ক ফোর্স নির্দিষ্ট ভাবে মাদকের বেআইনি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণেই কাজ করবে। কমিশনারেট থেকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়। নতুন সরকার গঠন হতেই সবুজ সংকেত মেলে।