• ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে প্রথম দিনেই হট্টগোল বিধানসভায়, বাদানুবাদে জড়ালেন শুভেন্দু-শোভনদেবরা
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • নতুন সরকার গঠনের পরে শুক্রবার বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই তুমুল হইহট্টগোল। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ঘিরে তরজায় জড়াল শাসক এবং বিরোধী শিবির। তৃণমূলের বিধায়ক ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের তোলা ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের জবাব দিতে উঠে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (তিনি বিধানসভার প্রোটেম স্পিকারও)।

    শুক্রবার বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধ্বনি ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। পরে মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে রথীন্দ্র স্পিকারের কুর্সিতে বসেন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ দিন স্পিকার নির্বাচনের আগেই এক দফা উত্তাপ ছড়িয়েছিল বিধানসভায়। বিজেপি বিধায়কেরা ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলায় অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেছিলেন তৃণমূল বিধায়কেরা। স্পিকার নির্বাচন পর্বেও তাঁরা সভায় হাজির ছিলেন না। পরে তাঁরা যোগ দেন। স্পিকার পদে বসে বিধানসভার নিয়ম মেনে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীকে বলার অনুমতি দেন রথীন্দ্র। সেই মতো বক্তব্য পেশ করতে উঠে শুভেন্দু বলেন, ‘গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। সংবিধানের পরিভাষায় House belongs to the Opposition।’ বিধানসভায় সরকার এবং বিরোধী পক্ষ ৫০-৫০ ভাগে বক্তৃতার সুযোগ পাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এর পরেই দস্তুর মেনে বলতে ওঠেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব। নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের দিকে। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই মামলা হয়েছে। শোভনদেব জানান, বহু মানুষ এখন ঘড়ছাড়া। নানা জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করুক সরকার। তার জবাবে বলতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ রকম কোনও হিংসার ঘটনার কথা তাঁদের জানা নেই। আর যদি কেউ ঘরছাড়া থেকেও থাকেন, সে ক্ষেত্রে দেখা হবে তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল কি না। তবে, যদি কোনও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ না থাকে, তা হলে পুলিশ ও প্রশাসন তাঁকে ঘরে ফেরাবে। হিংসার ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু।

    পরে প্রোটেম স্পিকার তাপস বলতে উঠলে সভায় হট্টগোল আরও বাড়ে। তাপসের বক্তব্য, তৃণমূল বিধায়কদের মুখে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ মানায় না। এ বারের ভোটে বাংলা ভয়মুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তাপস। তার পরেই উল্টো দিক থেকে বিরোধিতা করতে শুরু করেন তৃণমূলের বিধায়কেরা। তাঁদের উদ্দেশে তাপস চিৎকার করে বলেন, ‘চুপ, চুপ। চুপ করে বসুন।’ পরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন তাপস।

    এর পর একে একে বক্তৃতা করতে উঠে নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানান আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান।

    নওশাদের বক্তৃতাতেও ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ ওঠে। ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়কের বক্তব্য, গত বারের ভোটের পর রাজ্য জুড়ে নানা জায়গায় হিংসার ঘটেছিল। কিন্তু আগের সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল সেই সময়ে। নওশাদ বলেন, ‘যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে প্রথম ৬ মাস ভীষণ ভয়ে ভয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম, আমি বিধায়ক পদে ইস্তফাই দিয়ে দেব। কারণ আমার জন্য আমার দলের লোকজন মার খাচ্ছিলেন।’ নওশাদের বক্তব্যকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্য বিজেপি বিধায়কেরা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আইএসএফ বিধায়ক আবেদন করেন, ‘আমাদের বিরোধী দলের মর্যাদা দেবেন দয়া করে। আমাদের বলার সুযোগ দেবেন। আমরা মানুষের কথাই বলব। শুধু বিরোধিতা করতে হবে বলে বিরোধিতা করব না।’

  • Link to this news (এই সময়)