আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের আপ্তসহায়ককে খুনের অভিযোগে দীর্ঘ তিন বছর পর গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের তৃণমূল ব্লক সভাপতি মহম্মদ এনায়েতুল্লা। বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচগ্রামের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে নবগ্রাম থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনাটি ২০২৩ সালের। নবগ্রাম তৃণমূল ব্লক সভাপতি এনায়েতুল্লার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ডিগ্রিগঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মেহেবুসা ওরফে রুবেল শেখ (২৭)। ৩১ জানুয়ারি রাত দশটা নাগাদ রুবেল তাঁর কিছু বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বিলবসিয়া এলাকায় বসে গল্প করছিলেন। সেই সময় পাঁচগ্রামের দিক থেকে দু'জন দুষ্কৃতী একটি মোটরসাইকেলে এসে রুবেলকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয়।
স্থানীয়রা রুবেলকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরের দিন অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রুবেলের।
মৃত্যুর পর রুবেলের বাবা নবগ্রাম থানায় একটি বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সেই সময়ে এনায়েতুল্লা নবগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক কানাই চন্দ্র মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ রুবেলের খুনের মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রুবেল শেখ নবগ্রামের রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি নবগ্রামের ব্লক সভাপতি মহম্মদ এনায়েতুল্লার আত্মসহায়ক তথা 'কাছের লোক' হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সরকার ও বিধায়কের চাপে রুবেলের পরিবার এই খুনের মামলার কোনও তদন্ত করাতে পারেনি বলে অভিযোগ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সম্প্রতি খোলা হয় তিন বছর আগের সেই পুরনো মামলা। তার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার রাতে এনায়েতুল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে নবগ্রাম থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। আজই তৃণমূল ব্লক সভাপতিকে আদালতে পাঠাবে পুলিশ। রুবেল খুনের মামলায় এটিই প্রথম গ্রেপ্তারি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে
এই ঘটনা প্রসঙ্গে, নবগ্রামের বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক কানাই চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “আমি শুনেছি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই মামলায় প্রকৃত দোষীদের ধরবে এই আশা রাখছি।”
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে কানাই চন্দ্র মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। নবগ্রাম কেন্দ্রে এবার বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
ব্লক সভাপতির গ্রেফতারের পর তাঁর সঙ্গে 'দূরত্ব' তৈরি করতে শুরু করেছে তৃণমূল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নবগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী প্রণব চন্দ্র দাস বলেন, “আমি শুনেছি ব্লক সভাপতি গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু কী কারণে এই গ্রেপ্তারি তা জানি না।”