আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় ভরাডুবির পর, তৃণমূলের নজর দিল্লিতে। আর নড়বড়ে জমি শক্ত করতে, এবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম দিল্লিতে দায়িত্ব দিয়েছে কল্যাণের কাঁধে। বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বৈঠকে ফের লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব কল্যাণ ব্যানার্জির হাতেই তুলে দিয়েছেন। কল্যাণ জানিয়েছেন, তিনি দলনেত্রীর দেওয়া দায়িত্ব পালন করবেন। আর তখন থেকেই নজর ছিল কাকলি কী বলছেন সেদিকে।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। স্রেফ এক লাইনে লিখেছেন, '৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।' রাজনৈতিক মহলের মতে, এক লাইনেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কাকলি। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন থেকে, তৃণমূল কংগ্রেস, লম্বা সময় মমতার পাশেই থেকেছেন কাকলি। সেই সময়কাল, সেসব দিনের কথাই তিনি মনে করাতে চেয়েছেন।
তৃণমূল সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কল্যাণের উদ্দেশে মমতা বলেন, ''কল্যাণকে শুভেচ্ছা। আমরা আদালতে সদর্থক লড়াই করেছি। ওরা (পড়ুন বিজেপি) একশ'র বেশি আইনজীবী ঢুকিয়ে দিয়েছিল এজলাসে। সেখানে তারা স্লোগানও দিচ্ছিল।'' এরপরই কল্যাণ বলেন, ''বিজেপির একজন সিনিয়র আইনজীবী প্রথম স্লোগান শুরু করেন। এমন ঘটনা কোথাও দেখা যায় না।'' কল্যাণের কথা শুনেই মমতা বলে ওঠেন, ''গণনার দিন ভবানীপুরে ওদের কাউন্টিং এজেন্ট আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি সব সামনে নিয়ে আসব। এমন অবস্থা, যেন সুপার এমার্জেন্সি। ২০২৯-এ ওদের পরাজয় নিশ্চিত।''
২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে একাধিক দলীয় সাংসদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কল্যাণ। তাঁর বদলে লোকসভায় দলের নতুন মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বারাসতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। পাশাপাশি কাকলির ছেড়ে যাওয়া পদ অর্থাৎ লোকসভার উপ দলনেতা বা ডেপুটি লিডার করা হয় বীরভূমের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়কে। কিন্তু ২০২৬-এ তৃণমূলের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এবার ফের কল্য়াণের উপরই আস্থা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ।
: ১৫ বছর মসনদে থাকার পর ক্ষমতা হারিয়েছে দল। আর ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে ভিন্ন সুর ৷ এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভোটে দলীয় বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে বৃহস্পতিবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। আর সেই বৈঠক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন মমতা। কিন্তু ঠিক তার পরেই কি বেসুরো হলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী?