দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু ঘিরে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে, ভাঙচুর-লাঠিচার্জ
আজ তক | ১৫ মে ২০২৬
Harishchandrapur Police Station Clash Unrest: সাতসকালে পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুশিদা এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর থেকে শুরু করে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ। উত্তেজনার আঁচ এতটাই ছিল যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় বলে অভিযোগ। আর সেই লাঠির ঘায়ে রক্তাক্ত হতে হয়েছে স্বয়ং মৃত যুবকের মা-কেও।
শুক্রবার সকালে বাংলা-বিহার সংযোগকারী কুশিদা-তুলসিহাটা রাজ্য সড়কে একটি বেপরোয়া গতির লরি পিষে দেয় এক বাইক আরোহীকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বছর একুশের যুবক হাসান আলির। তিনি রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের মানকিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর দিদি দুলি খাতুন (৩০)। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ও কুশিদা ক্যাম্পের বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনরোষের মুখে পড়ে। পুলিশ যখন মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে চায়, তখন বাধা দেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। শুরু হয় বচসা, যা মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও কাঠের গুড়ি ছুড়তে শুরু করে। এতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার তিন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন। উন্মত্ত জনতা পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয়দের দাবি। লাঠির আঘাতে মৃত যুবকের মা আকালি খাতুন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষ লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, "পুলিশ শুধুমাত্র দেহ উদ্ধার করতে গিয়েছিল। কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। উল্টে স্থানীয়রাই পুলিশকে আক্রমণ করেছে।"
এলাকায় উত্তেজনা থাকায় নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। পুলিশ ইতিমধ্যেই সরকারি কাজে বাধা ও আক্রমণের অভিযোগে ৮ জনকে আটক করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।