পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসু, জয়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসাবে কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসুকে বেছে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চমক দিল শাসকদল। প্রথম বার বিধায়ক হওয়া রথীন্দ্র শুক্রবার ধ্বনি ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু থেকেই জল্পনা ছিল, স্পিকারের কুর্সিতে কাকে বসাবে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত তুলনায় কম পরিচিত হলেও সাংগঠনিক ভাবে সক্রিয় রথীন্দ্রর উপরেই আস্থা রাখল শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় তাঁর নাম প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ। বিরোধীদের তরফে কোনও প্রার্থী না থাকায় ধ্বনি ভোটেই জয় নিশ্চিত হয় রথীন্দ্রর।
অধিবেশন শুরু হয় বন্দে মাতরম্ গান দিয়ে। স্পিকার নির্বাচন চলাকালীন তৃণমূল বিধায়কেরা সভাকক্ষে উপস্থিত না থাকলেও পরে তাঁরা অধিবেশনে যোগ দেন। তবে নতুন স্পিকারের নির্বাচনের বিরোধিতা করেননি বিরোধী সদস্যরা। স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে স্পিকারের আসনে বসেন রথীন্দ্র। সেই সময় বিধানসভায় করতালিতে তাঁকে স্বাগত জানান সদস্যদের একাংশ। প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
স্পিকারের আসনে বসেই রীতি মেনে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেন রথীন্দ্র। শুভেন্দু বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিধানসভা আরও গঠনমূলক পরিবেশে চলবে বলেই তাঁর আশা। বিরোধীদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ থাকবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি অযথা হট্টগোল বা কার্যপ্রণালী ব্যাহত না করার আবেদনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানাও নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রসঙ্গত, পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্র দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি। সাধারণত অভিজ্ঞ আইনজীবী বা বর্ষীয়ান বিধায়কদের স্পিকার পদে বসানোর প্রবণতা দেখা যায়। সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে এক জন প্রথম বারের বিধায়ককে স্পিকার করে বিজেপি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।