সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার হলেন রথীন্দ্র বোস, বিধানসভার কাজ লাইভ দেখানো হবে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রতিদিন | ১৫ মে ২০২৬
প্রত্যাশামতোই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হলেন শাসকদলের মনোনীত প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দিয়ে রথীন্দ্রের নামে সায় দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, চমকপ্রদভাবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এবার থেকে বিধানসভার কার্যপদ্ধতি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যাতে নিজেদের বিধায়কদের কার্যপদ্ধতি, বিরোধীদের আচরণ এবং সরকারের কাজের পদ্ধতি সবটাই মানুষ নিজের চোখে দেখতে পারেন।
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসাবে রথীন্দ্রর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ বিজেপি বিধায়করা সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। বিরোধী দলের তরফে কাউকে প্রার্থী না করায় ধ্বনিভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বোস। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে স্পিকারের আসনে স্বাগত জানান। বিধানসভার ঐতিহ্য মেনে স্পিকার নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের ধন্যবাদও জানান।
তবে এরপরই ছিল আসল চমক। স্পিকারকে স্বাগত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন, “এই ঐতিহাসিক ভবনে বাজেট-সহ গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। অতীতের সব তিক্ততা ভুলেই বলছি, এই ভবনে নির্বাচিত বিধায়কদের পারফরম্যান্স যাতে জনগণ দেখতে পান, সেটার ব্যবস্থা করা দরকার। আমরা চাই না বিধানসভায় নির্ধারিত কর্মসূচি অহেতুক ভেস্তে দিক বিরোধীরা। বিধানসভাটা মারামারির জায়গা নয়। আমরা চাই না কোনও অপরাধ ছাড়াই ১১ মাস কোনও বিরোধী নেতাকে হাউসের বাইরে থাকতে হোক। আমরা চাই না কোনও বিরোধী বিধায়ককে রক্তাক্ত অবস্থায় বিধানসভা ছাড়তে হয়।” এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীই দীর্ঘদিন সাসপেন্ডেড ছিলেন। আগের বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে রক্তাক্তও হতে হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, “বিজেপি গণতন্ত্রে এবং বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আর হাউস বিলংস টু অপোজিশন। সংখ্যায় অনেক কম হলেও বেশি করে বলার সুযোগ পাবেন বিরোধীরা। শাসক-বিরোধী ৫০-৫০ এও সমীকরণ থেকে সরে আসবে না সরকার।”