• গুরুতর অভিযোগ, পকসো মামলায় জামিন পাবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুত্র? ভবিষ্যৎ ঝুলে হাইকোর্টে
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • ক্ষমতা আর আইনের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হবে কার? একদিকে প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর পুত্র, অন্যদিকে এক নাবালিকার করা যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ। আগাম জামিনের আবেদন করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের ছেলে বান্দি সাই ভগীরথ। সেই সঙ্গে চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সুরক্ষা। শুক্রবার (১৫ মে) এই হাই প্রোফাইল মামলার রায় ঘোষণা করার কথা তেলঙ্গানা হাই কোর্টের। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানির পরে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রায় ঘোষণা হয়নি। তবে এই রায়ের উপরেই নির্ভর করছে প্রভাবশালীর পুত্রের ভবিষ্যৎ।

    ভগীরথের বিরুদ্ধে POCSO আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে হায়দরাবাদের পেটবাশীরবাদ থানার পুলিশ। নির্যাতিতার মায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে নির্যাতিতার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ভগীরথের।

    এর পরে ওই বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নাবালিকাকে লাগাতার যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেল করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে শ্লীলতাহানি ও হেনস্থার মামলা রুজু করা হলেও, নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করার পরে এতে ‘অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’ বা গুরুতর যৌন অপরাধের ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

    গত ১৩ মে পুলিশ নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও ভগীরথ হাজিরা দেননি। তিনি আপাতত পলাতক বলে জানা গিয়েছে। তাঁর খোঁজে দিল্লি ও করিমনগরে দল পাঠিয়েছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার আদালতে ভগীরথের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা YSRCP সাংসদ নিরঞ্জন রেড্ডি। মামলাটি ভুয়ো বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ করেন, ৫ কোটি টাকা আদায়ের ছকেই এই ভুয়ো মামলা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার বয়স নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    ২০২১ সালের এক বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মামলার চার্জশিট পেশ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে নির্যাতিতার বয়স ১৫ বছর বলা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে তাঁর বয়স ১৯ হওয়ার কথা। অর্থাৎ, অপরাধের সময়ে নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন না।

    পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ঘটনার বিষয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে কেন অভিযোগ দায়ের হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিবাদী পক্ষ। তবে ভগীরথ তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানান তাঁর আইনজীবী।

    আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, POCSO মামলায় সাধারণত আদালত নির্যাতিতার নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেয়। তবে তার বয়স এবং FIR করতে দেরি হলো কেন, এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়। নির্যাতিতার বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বয়স নির্ধারণের অকাট্য প্রমাণ অনেক সময়ে এই ধরনের মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

    এ দিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার প্রথমে একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলেছিলেন। তবে ১২ মে এক জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘আমার ছেলে যদি সত্যিই অপরাধী হয়, আমি তাকে ক্ষমা করব না।’

    শুক্রবার আদালত কী রায় দেয়, তার উপরেই নির্ভর করছে এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি। এ দিনের রায় অবশ্য শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সুরক্ষার বিষয়ে। আগাম জামিনের মূল মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে পরের সপ্তাহে।

  • Link to this news (এই সময়)