• ভোজশালা আদতে মন্দিরই, বড় রায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের
    এই সময় | ১৫ মে ২০২৬
  • বিতর্কিত ভোজশালা মন্দির-কমল মওলা মসজিদ চত্বরের মামলায় বড় রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। শুক্রবারের রায়ে আদালত জানিয়েছেন, ওই চত্বরের বির্তকিত অংশ মন্দির বলে গণ্য করা হবে। এখন থেকে সেখানে একমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের আচার পালন করতে পারবেন। মুসলিম সম্প্রদায়কে জানানো হয়েছে, তারা চাইলে রাজ্য সরকারের কাছে মসজিদ তৈরির জন্য জমির আবেদন জানাতে পারে।

    এর আগে ASI (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া) জানিয়েছিল, ধার জেলার ভোজশালা মন্দির চত্বরে শুক্রবারের নমাজ পড়তে পারবেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। দীর্ঘদিন ধরেই শুক্রবার মুসলিমরা নমাজ পড়েন এবং মঙ্গলবার হিন্দুরা পুজো দেন ভোজশালা মন্দির-কমল মওলা মসজিদ চত্বরে। চলতি বছরে শুক্রবার সরস্বতী পুজো পড়েছিল। ওই দিন কারা প্রার্থনা করবেন, তা নিয়ে দুই পক্ষই আদালতে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ও মুসলিম দুই পক্ষকেই ধর্মীয় আচার পালনের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত।

    এই চত্বর কাদের, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি লড়াই চলছে। হিন্দুপক্ষের দাবি, পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের তৈরি এই ভোজশালা মন্দির। দেবী সরস্বতীর জন্য এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। তার সঙ্গেই এই চত্বর সংস্কৃত, আধ্যাত্মিকতা সংক্রান্ত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশে হাইকোর্টের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি অলোক অবস্থী জানিয়েছেন, ভোজশালা চত্বরে সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। ঐতিহাসিক নথি থেকেও দেখা গিয়েছে ভোজশালার এই বিতর্কিত এলাকা সংস্কৃত চর্চার পীঠস্থান ছিল, যা রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

    হিন্দুদের বহুদিনের দাবি ছিল, ভোজশালা মন্দির রাজা ভোজের তৈরি। এই মন্দির দেবী সরস্বতীর আরাধনার জন্য নির্মিত। অন্যদিকে মুসলিমদের দাবি, এটা আদতে কমল মাওলা মসজিদ। এ দিনের রায়ের সঙ্গে আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, এখন লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজ়িয়ামে থাকা দেবী সরস্বতীর মূর্তি ফেরত আনতে। ওই দেবী মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাজা ভোজ। আদালত জানিয়েছে, এই চত্বরটির দেখভালের দায়িত্বে থাকবে ASI (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া)।

    ২০০৩ সাল থেকে ASI- যে নিয়ম চালু করেছিল, তাতে মঙ্গলবার হিন্দুরা এবং শুক্রবার মুসলিমরা প্রার্থনা করতেন এই চত্বরে। হিন্দুদের পক্ষ থেকে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর পরে ২০২৪ সালে, হাইকোর্ট ভোজশালা মন্দির-কমল মাওলা মসজিদ চত্বরে বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। ৯৮ দিন ধরে সমীক্ষা শেষ করে ২০০০ পাতারও বেশি রিপোর্ট জমা দেয় ASI। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, পারমার বংশের সময়কালে স্থাপত্য রয়েছে ওই চত্বরে। বিতর্কিত অংশটি পুরোনো মন্দিরের কাঠামোর অংশ নতুন করে ব্যবহার করে তৈরি বলে জানানো হয়। হিন্দুদের দাবি ছিল, সমীক্ষায় যে স্থাপত্য, মুদ্রা ও শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে তাতে প্রমাণ হয় যে, সেটি আসলে মন্দির। যদিও মুসলিম পক্ষের দাবি ছিল, এই সমীক্ষা পক্ষপাতদুষ্ট।

  • Link to this news (এই সময়)