• উচ্চ মাধ্যমিকে দাপট মিশনের, প্রথম নরেন্দ্রপুরের আদৃত, পাশের হারে টেক্কা মেয়েদের
    বর্তমান | ১৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টে তাক লাগিয়ে দিল রামকৃষ্ণ মিশনের স্কুলগুলি। প্রথম দশে থাকা ৬৪ জন কৃতীর মধ্যে ৩৭ জনই মিশনের স্কুলগুলির পড়ুয়া। শুধুমাত্র নরেন্দ্রপুর এবং পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন থেকে মেধা তালিকায় রয়েছেন যথাক্রমে ১৮ এবং ১৭ জন ছাত্র। একইভাবে উল্লেখযোগ্য হল মেয়েদের সাফল্য। সার্বিক পাশের হার এবং ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের বেশ খানিকটা পিছনে ফেলেছেন ছাত্রীরা। ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা অনেক এগিয়ে। তবে, আশা করা  হয়েছিল সেমেস্টার সিস্টেমে পাশের হার এবং ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বাড়বে। তেমনটা একেবারেই হয়নি।

    শুধু নরেন্দ্রপুর বা পুরুলিয়াই নয়, বরানগর এবং মালদহ রামকৃষ্ণ মিশন থেকেও রয়েছেন একজন করে কৃতী। সারদা মিশনের নিবেদিতা গার্লস স্কুল থেকেও রয়েছেন একজন দশম স্থানাধিকারী। সরাসরি রামকৃষ্ণ মিশনের অংশ না হলেও হুগলির মাহেশ রামকৃষ্ণ বালকাশ্রম থেকেও রয়েছেন এক কৃতী। বরানগরের বাসিন্দা প্রথম স্থানাধিকারী আদৃত পাল জানিয়েছেন, তিনি মহাকাশ বিজ্ঞানী হতে চান। প্রথম থেকে তৃতীয় স্থানাধিকারীদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে এবং ভিডিও কলে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কৃতীদের কাছে পাঠানো হয় শুভেচ্ছাবার্তা, মিষ্টি এবং ফুল।

    এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ২৫৮ জন। সার্বিক পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। গত বছর তা ছিল ৯০.৭৯ শতাংশ। ছাত্রীদের পাশের হার ৯২.৪৭ শতাংশ। আর ৮৯.৭১ শতাংশ ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন। ২০২৫ সালে এই ছবিটা ছিল প্রায় উলটো। ৯৩ শতাংশ ছাত্র পাশ করেছিলেন। আর মেয়েদের পাশের হার ছিল ৮৮.৮৮ শতাংশ। এ বছর পরীক্ষায় বসা ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও পাশের সার্বিক হারে মেয়েদের এই সাফল্য চমকপ্রদ। ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ নম্বর বা ‘এ++’ গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন ছাত্ররা (৩,৩১৯ জন, আর ছাত্রী ৩,১১৫ জন)। তবে, সব মিলিয়ে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীরা কয়েক যোজন পিছনে ফেলেছেন ছাত্রদের। ‘এ+’ (ছাত্র ২৩,০৩১, ছাত্রী ২৯,৮১২), ‘এ’ (ছাত্র ৪৯,৩৭২, ছাত্রী ৬৬,৮৮৫) এবং ‘বি+’ (ছাত্র ৬৯,০১৪, ছাত্রী ৮৩,২৪১) গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে তারাই। ছাত্রীরা অবশ্য মেধাতালিকায় সংখ্যালঘু। প্রথম দশে থাকা ৬৪ জনের মধ্যে মাত্র ৮ জন ছাত্রী। 

    পাশের হারে শীর্ষস্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর (৯৪.১৯ শতাংশ)। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে রয়েছে হাওড়া (৯৩.৮৪ শতাংশ) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৯৩.৭১ শতাংশ)। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা (৯১.৮৮ শতাংশ) রয়েছে অষ্টম স্থানে। তবে, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দৌলতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা কৃতীর তালিকায় সর্বোচ্চ। এই জেলা থেকে ১৯ জন রয়েছেন প্রথম দশে। তারপরেই রয়েছে পুরুলিয়া। অবশ্য সব ছাত্রই রামকৃষ্ণ মিশনের। এছাড়া কলকাতা এবং হুগলি থেকে রয়েছেন ৪ জন করে।

    এ বছরই প্রথম, একেবারে রেজাল্টের দিনেই মার্কশিট বিলি করা হয়েছে বেশিরভাগ স্কুলেই। কারণ, আগেভাগে মার্কশিট বিলি করা হয়েছে ক্যাম্প থেকে। এতদিন শুধুমাত্র মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে এই সুযোগ পেয়ে আসত ছাত্রছাত্রীরা। শুধু মার্কশিট বা শংসাপত্র নয়, ছাপানো রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। এতদিন ডিজিটাল কপির প্রিন্ট আউট দিয়েই পরীক্ষার্থী এবং স্কুলগুলিকে কাজ চালাতে হত।

    স্কুলগুলির পারফরম্যান্স বোঝার জন্য এবারই প্রথম ‘বক্স প্লট’ রিপোর্ট ব্যবস্থা চালু করেছে সংসদ। কোন স্কুল থেকে কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাঁরা কত নম্বর পেয়েছেন, কোন গ্রেড কতজন পেয়েছেন—সেই হিসাব করা হয়েছে বিভিন্ন টেবিল এবং পাইচার্টের মাধ্যমে। সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠান হিসাবে রাজ্যের মধ্যে তাদের কেমন পারফরম্যান্স, তা ওই বক্স প্লট দেখে জেনে নিতে পারছে স্কুলগুলি। 
  • Link to this news (বর্তমান)