নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সদ্যোজাত বদলের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। একদিকে নবজাতকের মৃত্যু, অন্যদিকে পরিচয় বিভ্রাট—পুরো ঘটনায় হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ক্ষোভে ফুঁসছেন দু’টি পরিবারের সদস্যরা। পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে।
অভিযোগ, আমডাঙার শফিকুল শেখের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে ভুলবশত দেগঙ্গার ফিরোজের (নাম পরিবর্তিত) পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসবের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছিল, পুত্রসন্তান হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কলকাতার শিশু হাসপাতালে রেফার করা হয়। তড়িঘড়ি শিশুটিকে নিয়ে কলকাতায় ছুটে যান ফিরোজের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে সৎকারের প্রস্তুতির সময়ই পরিবারের নজরে আসে। মৃত শিশুটি আসলে কন্যাসন্তান। অথচ শুরুতে হাসপাতাল থেকে তাঁদের জানানো হয়েছিল, জন্মেছে পুত্রসন্তান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সার্বিক দিক তাঁরা দেখেননি। এই তথ্যগত অসঙ্গতি সামনে আসতেই শুরু হয় তীব্র চাঞ্চল্য। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, তখন নাকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয় ভুল হয়েছে। কন্যাসন্তানটি ফিরিয়ে দিন। এবং চুপি চুপি এসে আপনাদের ছেলে নিয়ে যান। পরে পুত্র সন্তানকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নিজের সদ্যোজাত কন্যাকে না পেয়ে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়ে শফিকুল শেখের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও নজরদারি হলে শিশুটিকে হয়তো বাঁচানো যেত।
পাশাপাশি তাঁদের প্রশ্ন, সদ্যোজাতদের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন গুরুতর ভুল বা গাফিলতি ঘটল? ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সম্পূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল চত্বরে চাপা উত্তেজনা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের রিপোর্টের অপেক্ষায় এখন দুই পরিবার। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই ‘ভুল’-এর দায় শেষ পর্যন্ত নেবে কে? শফিকুল বলছেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। হাসপাতালের কারণেই আমি সন্তানহারা হলাম। আর দেগঙ্গার যে পরিবারকে আমার মেয়েকে দেওয়া হয়েছিল তারা ফুটফুটে পুত্রসন্তান পেল। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।