নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কংক্রিটের আবাসনের বাইরে এক টুকরো সবুজ। শহরের নাগরিকদের জন্যই একাধিক জায়গায় গ্রিন ভার্জ তৈরি করেছিল নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ)। কিন্তু বেশ কিছু জায়গায় সেই গ্রিন ভার্জে এখন পা ফেলাই দায়। বড়ো বড়ো আগাছার জঙ্গল। ভিতরে ঢোকা তো দূরের কথা, বিকেলের পর দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, এতটাই জঙ্গল হয়ে গিয়েছে আস্ত বাঘ লুকিয়ে থাকলেও দেখা যাবে না। এমনিতেই নিউটাউনে সাপের উপদ্রব। বছরখানেক আগে বিষধর চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারাও গিয়েছেন দু’জন। কামড় খেয়েছেন অসংখ্য আবাসিক। তাই আগাছা ও জঙ্গল বাড়ার পর সাপের ভয় পাচ্ছেন অনেকে। সেই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। নিউটাউনের ‘বি ডি’ ব্লকের স্ট্রিট নম্বর-১৬৫। সেখানে রাস্তার ধারে থাকা ৮ নম্বর গ্রিন ভার্জে দেখা গিয়ে দেখা গিয়েছে, ঢোকার মুখেই জঞ্জাল ফেলা হয়েছে। ভিতরে কংক্রিটের ব্লকের রাস্তা ঢেকে যাচ্ছে আগাছায়। কোমর পর্যন্ত বড়ো বড়ো ঘাস। কিছুটা এগিয়ে একটি বড়ো জলাশয়। তার চারপাশ বুজে আসছে। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। দিনের আলোয় এই গ্রিন ভার্জে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। অথচ সামনে বড়ো সাইন বোর্ড। সেখানে গ্রিন ভার্জ খোলার সময় লেখা আছে, সকাল ৫টা থেকে ৯টা এবং বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বিবেক সরকার নামে এক যুবক এগিয়ে এসে বললেন, দিনের বেলায় কেউ ঢোকেনি। রাত ৮টায় কে ঢুকবে? সাপের কামড় খেয়ে মারা যেতে হবে। কারও নজরই নেই। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই অবস্থা হয় কী করে?
ওই গ্রিন ভার্জ থেকে বিশ্ববাংলা সরণির দিকে কিছুটা এগলেই ‘বি ই’ ব্লক। সেখানে রয়েছে ৯ নম্বর গ্রিন ভার্জ। ৮ নম্বরের থেকে আকারে অনেকটাই ছোটো। কিন্তু ওই গ্রিন ভার্জের অবস্থাও একইরকম। সেখানে আগাছার জঙ্গল। কোনো রক্ষণাবেক্ষণ নেই। বাসিন্দাদের কথায়, বর্ষার সময় প্রতিবার নিউটাউনে চন্দ্রবোড়ার উৎপাত শুরু হয়। একবছর আগে বর্ষার সময় চন্দ্রবোড়ার কামড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। চন্দ্রবোড়ার সঙ্গে কেউটে ও গোখরোও পাওয়া যাচ্ছে। তাই বর্ষার আগে গ্রিন ভার্জগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে এনকেডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।