• প্রেসিডেন্সি জেলে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন বন্দিরা! ২ কারা আধিকারিককে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
    আনন্দবাজার | ১৫ মে ২০২৬
  • প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি বেশ কয়েক জন মোবাইল ব্যবহার করতেন। তথ্য পেয়ে তদন্ত করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংশোধনাগারের দায়িত্বে থাকা দুই আধিকারিককে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী।

    শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সংশোধনাগারে নানা অনিয়ম এবং বেনিয়মের অভিযোগ করে পূর্বতন সরকারকে একহাত নেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আগে যে ল’লেস (অরাজক) অবস্থা ছিল, ল’ ইনফোর্সিং অথরিটি থেকে কারেকশনাল হোম সব জায়গায় এক ধরনের অ্যানার্কি (নৈরাজ্য) এবং ম্যালপ্র্যাকটিস (অসদাচরণ) চলেছে। যেখানে রক্ষকই ভক্ষক! এই নেক্সাসের র‌্যাকেট ভাঙার কাজ আমরা চালিয়ে যাব।’’ তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর হাতে এখন যে যে দফতর রয়েছে, তার মধ্যে একটি হল কারা। সংশোধনাগুলির পরিস্থিতি বিচার করার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন আমলাদের। তার পর বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন। কারাগারে বন্দি থাকাদের মোবাইল ব্যবহার তার মধ্যে একটি।

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘রাজ্যে যে সংশোধনাগারগুলি রয়েছে, সেখানকার বন্দিদের আত্মীয়দের কাছে খবর পেয়েছিলাম। জেনেছিলাম, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহার করছেন বন্দিরা। এমনকি, তাঁদের কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন জেলে বসে! গত সরকারের আমলে এগুলোর সমর্থন বা উদাসীনতার প্রমাণ।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিজি (কারা) এন রমেশবাবুকে পদক্ষেপ করতে বলেছিলেন। এন রমেশবাবু রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সাহায্য নেন। তাঁরা দেখেন, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এর পর বেশ কয়েকটি মোবাইল দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেগুলো প্রেসিডেন্সির বন্দিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘জেল থেকেও অপরাধীরা তাঁদের অপরাধের নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছেন। শাসকের একটি গোষ্ঠীর সমর্থনে এই কাজ করা হত। এটা এক দিনের কাজ নয়। বছরের পর বছর এই অনিয়ম চলে আসছিল।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নীচ থেকে উপর পর্যন্ত এত নেক্সাস এবং ইললিগাল অ্যাক্টিভিটিজ় করে রেখেছেন, সেগুলো ক্র্যাক ডাউন শুরু করেছি। সময় তো লাগবেই। যত সংশোধনাগার রয়েছে, সেই সমস্ত কর্তৃপক্ষ তথা যাঁরা আসামিদের এ ভাবে সাহায্য করছেন, তাঁদের সাবধান করতে চাই... আজ (শুক্রবার) ২টো থেকে এ সব বন্ধ করুন। এটাই শেষ।’’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোবাইল উদ্ধারের ঘটনায় নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী আলাদা আলাদা সেলে সরানো হচ্ছে অভিযুক্ত বন্দিদের। তিনি বলেন, ‘‘সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান-সহ যে কুখ্যাত আসামিরা এখনও জেলে বসে অপরাধের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডে ওসি (ফায়ার)-কে সাসপেন্ড করেছি। এ বার প্রেসিডেন্সির ঘটনায় দু’জনকে সাসপেন্ড করছি। এঁদের এক জন হলেন এন কুজুর। তিনি প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিলেন। অপর জন দীপ্ত ঘোড়ুই। তিনি ছিলেন চিফ কন্ট্রোলার। শুধুমাত্র মোবাইল উদ্ধার করে বন্দিদের আইসোলেশন সেলে পাঠানোই নয়, যাঁদের উপর দায়িত্ব-কর্তব্যের ভার আছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক এবং সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা গোটা রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিভাগকে বার্তা দিতে চাই, এ বার থেকে সাবধান হয়ে, সতর্ক হয়ে নিজেদের কর্তব্য পালন করুন। এটাই তিলজলার পর দ্বিতীয় বড় পদক্ষেপ।’’

    প্রেসিডেন্সির ঘটনায় বন্দিরা কোথা থেকে সিম পেয়েছিলেন, কাদের নামে ওই সিম কার্ডগুলো তোলা হয়েছিল, কী ভাবে সেগুলো সংশোধনাগারে ঢুকল, সে সবেরই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, এর তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)