• চোখ নড়ছে পাথরের মূর্তির? নজর এড়ানোর উপায় নেই, হনুমান বিগ্রহ ঘিরে চাঞ্চল্য
    এই সময় | ১৬ মে ২০২৬
  • মন্দিরে দেবতার পাথরের মূর্তির দিকে তাকিয়েই তার আশা-আকাঙ্খা প্রার্থনা ব্যক্ত করে ভক্ত। ভক্তের চেতনাই পাথরের মূর্তিকে দেবতার মহীমা দেয়। তবে সেই পাথরের মূর্তির চোখ যদি নড়াচড়া করে? আজকের এই কলি যুগে সম্ভব? সম্ভব হয়েছে। এমন চমৎকারই ঘটছে হায়দরাবাদের ভেল (BHEL) সংলগ্ন ওল্ড এমআইজি কলোনির রামালয়ম মন্দিরে।

    মন্দিরের এক হনুমান মূর্তির চোখ বা দৃষ্টিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোড়ন। দাবি করা হচ্ছে, দর্শনার্থীরা বা ভক্তরা ওই বিগ্রহের যেদিকেই যাচ্ছেন, হনুমানজির চোখ তাঁদের সর্বত্র অনুসরণ করছে! অর্থাৎ, ভক্তরা ডানদিকে গেলে তাঁর চোখের মণি ঘুরে যাচ্ছে ডানদিকে, ভক্তরা বাঁদিকে গেলে বিগ্রহের চোখের মণি ঘুরে যাচ্ছে বাঁদিকে।

    শুধু দাবি নয়, এই অদ্ভুত হনুমান মূর্তির একটি ভিডিয়োও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মন্দিরে আসা দর্শনার্থীরা মূর্তির সামনে যেদিকেই যাচ্ছেন, হনুমান বিগ্রহের চোখ তাঁদের অনুসরণ করছে! এই অদ্ভুত বিষয় চাক্ষুষ করতে মন্দিরে প্রতিদিন অগণিত মানুষের ভিড় জমছে।

    ভক্তদের অনেকের একে বলছে ঐশ্বরিক মহিমা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। নেটিজ়েনদের একাংশের দাবি, এটি একটি ‘অপটিক্যাল ইলিউশন’ বা দৃষ্টিবিভ্রম। কেউ কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর জাদু কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন।

    বিজ্ঞান ও শিল্পকলার বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে এটা দৃষ্টিবিভ্রমই। যখন কোনও ভাস্কর্য বা চিত্রের চোখ এমনভাবে নকশা করা হয় যেখানে গভীরতা ও ছায়ার নিখুঁত ভারসাম্য থাকে, তখন এই ধরনের বিভ্রম তৈরি হয়। স্থান পরিবর্তন করলেও আমাদের মস্তিষ্ক মনে করে মূর্তির দৃষ্টি আমাদের অনুসরণ করছে।

    শিল্পকলার পরিভাষায় এই মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভ্রমকে অনেক সময় ‘মোনালিসা এফেক্ট’ (Mona Lisa effect) বলা হয়। কারণ লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘মোনালিসা’-র ক্ষেত্রেও এই বিভ্রম সৃষ্টি হয়। কোনও ধর্মীয় ছবি বা ভাষ্কর্যের সঙ্গে যাতে ভক্তদের সংযোগ স্থাপন হয়, তার জন্য ঐতিহাসিক সময় থেকেই ভাস্কর ও চিত্রশিল্পীরা এই কৌশল ব্যবহার করেন।

  • Link to this news (এই সময়)