• বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু, জানুন তাঁর পরিচয়
    আজকাল | ১৬ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার কোচবিহারের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদিন অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নাম প্রস্তাব করেন। এরপর সাময়িককালের অধ্যক্ষ (প্রোটেম স্পিকার) তাপস রায় ধ্বনিভোটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর মধ্য দিয়ে রথীন্দ্র বসু রাজ্যের উত্তরপ্রান্ত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া প্রথম বিধায়ক হিসেবে নজির সৃষ্টি করলেন।

    বিজেপির ২০৭ জন বিধায়কই রথীন্দ্র বসুর সমর্থনে ভোট দেওয়ার পর তাপস রায় তাঁকে বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

    কে এই রথীন্দ্র বসু?পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে দীর্ঘদিনের আরএসএস সহযোগী রথীন্দ্র বসু, কোচবিহার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩,২৮৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

    স্বাধীনোত্তর যুগে উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হওয়া প্রথম বিধায়ক হিসেবে রথীন্দ্র বসু ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

    বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নবগঠিত ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ পদের জন্য বসুর নাম বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই পদের জন্য কোনও প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

    এই পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য রথীন্দ্র বসুকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, "তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মূল্যবান প্রশাসনিক জ্ঞানও এই পদের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।"

    বিজেপি যখনই বসুর নাম ঘোষণা করে, তখনই অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর নির্বাচন নিশ্চিত হয়ে যায়, কারণ বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস কোনও প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার দলীয় সিদ্ধান্তই তাঁর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয়।

    তাঁর এই নির্বাচনকে রাজ্যের দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি রাজনৈতিক প্রথার ব্যতিক্রম হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলো অধ্যক্ষের পদের জন্য আইনজীবী কিংবা আইনি পটভূমি রয়েছে এমন বিধায়কদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।

    তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ববর্তী শাসনকালে প্রবীণ বিধায়ক বিমান ব্যানার্জি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    এর আগে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সৈয়দ আব্দুল মনসুর হাবিবুল্লাহ এবং হাসিম আব্দুল হালিমের মতো ব্যক্তিত্বরা এই অধ্যক্ষের আসনে আসীন ছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রথীন্দ্র বোসের মনোনয়ন কেবল একটি প্রশাসনিক পছন্দকেই প্রতিফলিত করে না, বরং বাংলায় ক্ষমতার এক ঐতিহাসিক পালাবদলের পর নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টায় রত বিজেপি নেতৃত্বের- আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং উদীয়মান মুখগুলোকে পুরস্কৃত করার একটি প্রয়াসকেও তুলে ধরে।

     
  • Link to this news (আজকাল)