আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল সরকারের আমলে দেওয়া সমস্ত জাতি শংসাপত্র খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। ২০১১ সাল থেকে এই পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতি শংসাপত্র বিলি করা হয়েছে। এই সব শংসাপত্রের বৈধতা খতিয়ে দেখা হবে। এমনকি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে যে সকল শংসাপত্র বিলি করা হয়েছিল সেগুলিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে অনগ্রস শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে তফসিলি জাতি ১ কোটি, তফসিলি উপজাতি ২১ লক্ষ এবং ওবিসিদের ৪৮ লক্ষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ৬৯ লক্ষের মধ্যে ৪৭.৮০ লক্ষ শংসাপত্র (এসসি ৩২.১৫, এসটি ৬.৬৫ এবং ওবিসি ৮.৬৪ লক্ষ) শুধুমাত্র দুয়ারে সরকার শিবির থেকে আবেদনের ভিত্তিতে হয়েছে।
দপ্তরের অভিযোগ, আগের শংসাপত্রের ভিত্তিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে জারি করা বেশিরভাগ শংসাপত্র নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। যেহেতু জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা কলকাতার এসডিওএস এবং ডিডব্লিউও-এর একটি বিধিবদ্ধ কাজ, তাই যে কোনও শংসাপত্র ইস্যু করার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে বৈঠক করা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ২০১১ সাল থেকে ইস্যু করা সমস্ত জাতি শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। এমনি দ্বিতীয় প্রজন্মের শংসাপত্রও যাচাই করা হবে। যদি দেখা যায় যে কোনও শংসাপত্র অবৈধভাবে ইস্যু করা হয়েছে, তবে পশ্চিমবঙ্গ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (শনাক্তকরণ) আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৯ ও ১০ এবং পশ্চিমবঙ্গ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (শনাক্তকরণ) বিধিমালা, ১৯৯৫-এর বিধি ৩ থেকে বিধি ৭ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি এসআইআরে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁদের জাতি শংসাপত্র বাতিলও করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই অনগ্রসর শ্রেণী দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছিলেন জাতি শংসাপত্র যাচাই করে দেখা হবে। শীঘ্রই সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সেই অনুয়ায়ী, শংসাপত্র যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।