আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে এখন ময়নাতদন্তের ব্যস্ততা। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংসদদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর, শুক্রবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে বিধায়ক এবং পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে এবং আগামীর রণকৌশল স্থির করতেই এই জোড়া বৈঠকের আয়োজন।
বৈঠক শেষে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, হারের ধাক্কায় মুষড়ে না পড়ে আক্রমণাত্মক পথেই হাঁটতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের পর দলীয় কর্মীদের ওপর যে 'অত্যাচার' ও 'ভীতি প্রদর্শন' চালানো হয়েছে, তার মোকাবিলায় তৃণমূল একজোট হয়ে লড়াই করবে। জনমত লুঠকারীদের সামনে মাথা নত না করার অঙ্গীকারও শোনা গিয়েছে নেতৃত্বের কণ্ঠে।
এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে একাধিক 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম' বা অনুসন্ধানকারী দল গঠন করেছে এআইটিসি (AITC)। সুস্মিতা দেব, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডলের মতো পোড়খাওয়া নেত্রীদের নেতৃত্বে তিনটি আলাদা দল আগামীকাল থেকে বিভিন্ন জেলায় সফর শুরু করবে। এই দলগুলি মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং বিজেপি-র হাতে নিহত বলে দাবি করা কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবে। এছাড়া জেলাভিত্তিক লিগ্যাল টিম বা আইনি সেল গঠন করা হয়েছে, যারা কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া 'মিথ্যা মামলা' এবং আইনি লড়াইয়ে সহায়তা দেবে।
সংসদীয় রাজনীতিতেও বড় রদবদল ঘটিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। দিল্লির দরবারে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও জোরালো করতে ফের একবার লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। দলের অন্দরের খবর, বিধানসভা ভোটে হারলেও ময়দান ছাড়তে নারাজ নেত্রী। বরং চব্বিশের লক্ষ্যে লোকসভাকেই এখন পাখির চোখ করতে চাইছেন তিনি, যেখানে কল্যাণের মতো ডাকাবুকো বক্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই অভাবনীয় পরাজয় নিয়ে যখন দলের অন্দরেই নানা সুর শোনা যাচ্ছে, তখন এই বৈঠকের মাধ্যমে মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট করে দিলেন যে, দলের রাশ এখনও তাঁর হাতেই শক্ত। মানুষের আস্থা ফিরে পেতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তৃণমূল এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে।