শুভেন্দুর কনভয়ে হামলায় কোচবিহারের ৩ TMC নেতা গ্রেফতার, খোঁজ উদয়ন-অভিজিতের
আজ তক | ১৬ মে ২০২৬
TMC Leader Shubhankar De Arrested Cooch Behar: বছর ঘোরার পর অবশেষে খাগড়াবাড়ির সেই বিতর্কিত কাণ্ডে তৎপর হলো পুলিশ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতারর করা হলো কোচবিহার-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শুভঙ্কর দে-কে। শুধু শুভঙ্করই নন, পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন পুন্ডিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান নূর আলম এবং বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য রঘুনাথ সরকারও। খাগড়াবাড়ি এলাকা থেকেই এই তিনজনকে পাকড়াও করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৫ অগাস্ট। কোচবিহারে বিজেপি বিধায়কদের ওপর বারবার হামলার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই তিনি পৌঁছেছিলেন জেলায়। কিন্তু অভিযোগ, খাগড়াবাড়িতে তৃণমূলের বিক্ষোভ কর্মসূচির মাঝে মেজাজ হারান শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। পুলিশের সামনেই শুভেন্দুর কনভয়ে ইট-বৃষ্টি শুরু হয়, ভেঙে দেওয়া হয় তাঁর গাড়ির কাঁচ। রেহাই পায়নি পুলিশের গাড়িও। সেই ঘটনায় উদয়ন গুহ, অভিজিৎ দে ভৌমিকের মতো হেভিওয়েট নাম-সহ মোট ৪১ জন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু।
তদন্তে নয়া মোড়
পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় আগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এখন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে নতুন করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই মামলার তালিকায় জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর নাম থাকায় জেলা রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
ধৃত শুভঙ্কর দে জেলা রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাবশালী এবং জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এমনকি একসময় তাঁকে সরকারি নিরাপত্তাও দেওয়া হত বলে খবর। এবারের নির্বাচনে কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়ের অন্যতম ছায়াসঙ্গী ছিলেন শুভঙ্কর। তবে জেলার ফলাফলে শাসকদলের ধাক্কার পর তাঁকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। শুক্রবারের এই গ্রেফতার পর পুন্ডিবাড়ি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাকি অভিযুক্ত ৪১ জন নেতার বিরুদ্ধেও পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।