মোদী সরকারকে ‘প্রতারক’ বলে আক্রমণ সাগরিকা ও মমতা ঠাকুরের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৬ মে ২০২৬
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দামের পতন, নিট পরীক্ষায় ফের প্রশ্নফাঁস এবং বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা— একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং মমতা ঠাকুর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরকারকে ‘প্রতারক’ অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, ভোটের আগে দেশের আর্থিক সঙ্কট নিয়ে নীরব থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর ভোট শেষ হতেই সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা।
সাগরিকা ঘোষ বলেন, ‘পেট্রোল-ডিজেলের দাম আচমকা বাড়ানো হয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম আগেই বেড়েছে। ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে একটি কথাও বলেননি। এখন ভোট লুটের পর সাধারণ মানুষের পকেট লুট করা হচ্ছে।’ তাঁর অভিযোগ, দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লাগাতার টাকা তুলে নিচ্ছেন, টাকার দাম কমছে এবং দেশের আর্থিক পরিস্থিতির প্রকৃত তথ্য সাধারণ মানুষের থেকে আড়াল করা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চলতি বছরে ভারতীয় মুদ্রার অবস্থা বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। গত দু’বছর ধরে দেশের অর্থপ্রদানের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সাগরিকার কথায়, ‘মোদী সরকারের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করে শুধুই প্রচার চালানো হয়েছে।’
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। অভিযোগ তুলে বলেন, ‘ফের নিট পরীক্ষা বাতিল হয়েছে প্রশ্নফাঁসের কারণে। ২০১৪ সালের পর থেকে ৭০ থেকে ৯০টি বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। কেন একটি পরীক্ষাও সঠিকভাবে নিতে পারছে না কেন্দ্র?’ জাতীয় পরীক্ষাকেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সংস্থার কাঠামো, সদস্য এবং রিপোর্ট নিয়ে যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে।
অন্যদিকে, ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে সাগরিকা ঘোষ বলেন, বাংলার বিভিন্ন এলাকায় খুন, অগ্নিসংযোগ, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং মানুষকে এলাকা ছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং আদালত ইতিবাচক নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য পুলিশকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে গ্রামে ফেরানোর দাবিও তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, তৃণমূল তিনটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল গঠন করেছে। এই দলগুলিতে সাংসদরাও থাকবেন। শনিবার থেকে তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভোটগ্রহণ, গণনা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। তাঁর অভিযোগ, ‘২০২৬ সালে বাংলার নির্বাচন পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে।’
এদিন মমতা ঠাকুরও সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, ভোটারদের হুমকি দেওয়া এবং নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে। এখনও বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না।’
মাতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘এত নাম বাদ যাওয়ার পরও বিজেপি কীভাবে এত বড় ব্যবধানে জিতল?’ পাশাপাশি ইভিএম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, বহু যন্ত্র ভোটের পরেও প্রায় সম্পূর্ণ চার্জ ছিল, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁস এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা ঠাকুর। তাঁর বক্তব্য, ‘যুবকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে।’ তৃণমূলের দাবি, তারা খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করবে, যেখানে ভোট প্রক্রিয়া, গণনা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটও দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি করবে বলে জানানো হয়েছে।