রাজ্যে পালাবদলের পর দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে। আর এক সপ্তাহ পরই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ফলতায় পুনর্নির্বাচন। তার আগে শুক্রবার প্রকাশ্যে এলেন তিনি। ঢুকলেন দলীয় কার্যালয়েও। পুনর্নির্বাচন নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন জাহাঙ্গির। বরং ‘পুষ্পা’ স্টাইলেই বললেন, ‘‘ফলতার মানুষের উপর বিশ্বাস রয়েছে। মানুষ যা রায় দেবেন, সেই রায় মাথা পেতে নেব।”
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন। ২৪ মে ফলপ্রকাশ। যদিও ইতিমধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। তারপর ফলতায় ভোটের প্রচারে কর্মিসভা রয়েছে তাঁর। আগামী ১৯ মে প্রচারের শেষ দিন ফলতায় মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার কথাও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফলতার বিজেপি কর্মীরা বিশেষভাবে উৎসাহিত। এই আবহেই দীর্ঘ সময় পর শুক্রবার ফলতায় প্রকাশ্যে দেখা গেল ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে। এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি শ্রীরামপুরে নিজের দলীয় অফিসে ঢোকেন। এখানে বসেই ২৯ এপ্রিল ভোট পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই জাহাঙ্গীর খানের এই দলীয় অফিসটিতেই ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। তারপর এদিন শুক্রবার নিজের সেই দলীয় অফিসে এলেন জাহাঙ্গির।
কোথায় ছিলেন এতদিন? উত্তরে জাহাঙ্গিরের জবাব, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই প্রতিদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে প্রশাসন যেভাবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে, সে কারণেই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রকাশ্যে আসিনি। পুলিশ আমাকে বাড়িতে ফিরিয়েছে, ডাহা মিথ্যে কথা। বাড়িতেই ছিলাম। প্রশাসন যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে, অশান্তি এড়াতেই প্রকাশ্যে আসিনি।” ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ তারপরও কেন এতদিন গৃহবন্দি এই প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘‘অজয় পাল শর্মা তো অনেক তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। তারপরও ভোট করিয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশন আবার গোটা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন করছে। আমি যদি ভয় পেতাম তবে সেদিন ভোট করালাম কী করে? মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। সেই ইভিএম খুলে গোনা হোক। ২০১৭ এর মিথ্যে একটি মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। এসবই কি নিরপেক্ষ ভোটের দৃষ্টান্ত?”
ফলতার মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারতেন না, আতঙ্কিত ছিলেন। এখন তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে জাহাঙ্গির বলেন, ‘‘স্থানীয় কোনও নেতৃত্ব কোনও ভুল করতে পারে কিন্তু ফলতার একজন মানুষও বলতে পারবেন না জাহাঙ্গির খান তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। মানুষের সুখে-দুঃখে তাঁদের পাশে থেকেছি। ফলতার উন্নয়ন করেছি। আগামী দিন মানুষ সুযোগ দিলে ফলতাকে আরও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাব।”
তবে জাহাঙ্গির মুখে যাই বলুন, ফলতায় আগের ছবিটা এখন সম্পূর্ণ উলটো। এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল কর্মীদের অনেকেই আতঙ্কে ঘরছাড়া। ভোটের দিন ও গণনার দিন কর্মীদের কতটা পাশে পাবেন তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত জাহাঙ্গীর। বলেন, ‘‘আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর জন্য। আমরাও বার্তা দিচ্ছি, ঘরছাড়ারা যেন ঘরে ফেরেন। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা। ভোট মানুষ দিতে পারত না এটা বিজেপির মিথ্যে প্রচার ছিল। ফলতার ভূমিপুত্র আমি। মানুষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আছেন, থাকবেনও। মানুষের উপর আশা, ভরসা রয়েছে আমার। ঝড় আসে, ঝড় চলেও যায়। মানুষ যা রায় দেবেন সেই রায়ই মাথা পেতে নেব।” বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির উৎসের তদন্তের জন্য ইডিকে চিঠি দিয়েছেন। তার জবাবে জাহাঙ্গির বলছেন, ‘‘এসব আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। বিষয়টা একসময় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আদালত সেই মামলার নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। সেই প্রমাণও থানার আধিকারিক ও পুলিশ সুপারকে দিয়েছি।”