• আপাতত স্বস্তি! টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরার পর ইডি দপ্তর থেকে বেরলেন রথীন ঘোষ
    প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
  • নতুন সরকার আসতেই দুর্নীতি মামলা নিয়ে তৎপর ইডি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় টানা ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষকে ছেড়ে দেওয়া হল। একাধিকবার তলব পেয়েও নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেননি তিনি। তবে শুক্রবার শেষমেশ হাজিরা দেন। সকাল ১০টা নাগাদ ইডি দপ্তরে নথিপত্র নিয়ে ঢুকেছিলেন রথীন ঘোষ। পুরনিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। এরপর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ প্রবীণ বিধায়ক বেরিয়ে আসেন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে।

    বছর তিন আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দপ্তরের দায়িত্ব মধ্যমগ্রামের দীর্ঘদিনের বিধায়কের হাতে তুলে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি খাদ্যদপ্তরের ‘কলঙ্ক’ খানিকটা ঘোচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এর মাঝেই রথীন ঘোষে নাম জড়ায় পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সুপারিশে মধ্যমগ্রাম পুরসভায় অবৈধভাবে নিয়োগ হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে ইডি।

    সেই মামলার তদন্তে ছাব্বিশের ভোটের মুখে তার কিনারা করতে রথীন ঘোষকে মোট ৫ বার ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রার্থী হওয়ায় এবং নির্বাচনের নানা কাজে ব্যস্ততার অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে যান। গত ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায়, রথীন ঘোষ মধ্যমগ্রাম থেকে মাত্র ১৩০০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এরপর তাঁর উপর ইডির চাপ আরও বাড়ে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলবে সাড়া দিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। টানা ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হল। পরে প্রয়োজনে ফের ডেকে পাঠানো হবে বলে ইডি সূত্রে খবর।

    এর আগে গত ১১ মে একই মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। ওইদিন প্রায় সাড়ে ১০ ঘন্টা ধরে জেরার পর গ্রেপ্তার হন। ঠিক চারদিনের মাথায় পুরনিয়োগ দুর্নীতি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেন আরেক প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি জানালেন, “আমার কাছে যা যা জানতে চেয়েছে, আমি সবই দেখিয়েছি।” 
  • Link to this news (প্রতিদিন)