বিদেশ ভ্রমণের উপরে কি নতুন করে কোনও কর বা সেস চাপাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার? সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এমন দাবি ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল এমনই জল্পনা। তবে শুক্রবার (১৫ মে) সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানে তিনি ৫ দেশ সফরে ভারতের বাইরে আছেন। এ দিন বিদেশ থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই খবরের একবিন্দুও সত্যতা নেই।
ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও আমদানির বর্ধিত খরচ সামাল দিতে বিদেশ ভ্রমণে সেস বা কর বসানোর কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। দাবি করা হয়, সরকারের শীর্ষ স্তরে এই নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে শুক্রবার সরাসরি এই খবরের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর মধ্যে একবিন্দুও সত্যতা নেই। বিদেশ ভ্রমণের উপরে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’ পাশাপাশি তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ‘ইজ় অফ লিভিং’ (Ease of Living) এবং ‘ইজ় অফ ডুইং বিজ়নেস’ (Ease of Doing Business)-এর উন্নতিতে তাঁর সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেয় ওই সংবাদমাধ্যম। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তারা জানায়, বিদেশ ভ্রমণে কর আরোপ সংক্রান্ত খবরটি সঠিক নয়। এই ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে তারা খবরটি প্রত্যাহার করে নেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী স্বয়ং এ ভাবে এগিয়ে এসে কোনও খবরের সত্যতা খণ্ডন করলেন, এমন ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম ঘটল। আসলে জ্বালানি সঙ্কটের এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যেরই ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যার জেরে অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী ফ্যাক্ট চেক করে দিলে, সেই খবর দ্রুত মানুষের মধ্যে পৌঁছে যায়।