• ‘কান টানলে মাথা তো আসবেই...’, আরজি কর কাণ্ডে ৩ IPS সাসপেন্ড হতেই বিস্ফোরক অভয়ার মা
    এই সময় | ১৬ মে ২০২৬
  • আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নবগঠিত রাজ্য সরকারের। তদন্তে গাফিলতি ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে তিন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসার— বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে বিভাগীয় তদন্ত। তবে এঁরা নেহাতই ‘কান’ বলে দাবি অভয়ার মায়ের। তাঁর অভিযোগ আসল মাথা হলেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একবার যখন কান ধরে টানা শুরু করেছেন, তখন মাথা আজ না হোক কাল আসবেই বলে আশাবাদী পানিহাটির বিধায়ক।

    শুক্রবার নবান্নে এর সাংবাদিক বৈঠক করে আরজি কর কাণ্ডের ফাইল ফের খোলার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘ঘটনার পিছনে কার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মদত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট— প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও এ বার তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

    সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরে পানিহাটির নবনির্বাচিত BJP বিধায়ক তথা অভয়ার মা রত্না দেবনাথ বলেন, ‘খুশি হওয়ার জায়গা নেই কারণ মেয়ে তো আর ফিরবে না। তবে যারা অপরাধী, তাদের এ বার শাস্তি পেতেই হবে।’

    তাঁর দাবি, শুধু পুলিশ কর্তা নন, এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রত্না দেবনাথের বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘বিনীত গোয়েল সব জানতেন। এ বার কান টানা হয়েছে, মাথাও ধরা পড়বে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই সব তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা হয়েছে।’

    পানিহাটির বিধায়কের অভিযোগের তির তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং আরজি করের কলেজ কর্তৃপক্ষের দিকেও। তিনি বলেন, ‘নারায়ণস্বরূপ নিগম খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া এইচওডি অরুণাভ দত্ত চৌধুরী এবং ডিভিপি সুমিত্রা তফাদারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার।’

    পালাবদলের পরে এই বার তাঁর মেয়ে বিচার পারে বলে আশাবাদী তিনি। রত্না বলেছেন, ‘আগেই বলেছিলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নবান্নের চোদ্দতলা থেকে না নামালে আমার মেয়ে বিচার পাবে না।’

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নতুন সরকারের এই কড়া মনোভাব এই হাইভোল্টেজ ঘটনার তদন্তে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। শ্মশানে তাড়াতাড়ি দেহ পুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সেমিনার রুমে বহিরাগতদের উপস্থিতি— প্রতিটি বিষয়ই এখন আতসকাচের তলায়।

  • Link to this news (এই সময়)