• সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনতে ‘দরবার’ শুভেন্দুর, কবে থেকে শুরু?
    এই সময় | ১৬ মে ২০২৬
  • এই সময়: সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে এ বার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘জনতার দরবার’ চালু করতে চলেছেন। সপ্তাহে ক’দিন, কোথায় এই ‘দরবার’ বসবে, তা নিয়ে রূপরেখা তৈরি করছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ জুন থেকেই এই কর্মসূচি চালু করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। দরবারে তাঁর সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ দু’জন আধিকারিক থাকবেন। তাঁর লক্ষ্য হলো, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি শোনা এবং দ্রুত তার নিষ্পত্তি করা। মানুষের কাছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, দিল্লি–সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যই এই মডেল সফল ভাবে রূপায়িত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি জনতার দরবার বসানোর নজির নেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও দপ্তরের মন্ত্রী নন, মানুষকে অভাব-অভিযোগ জানাতে তৎকালীন শাসকদলের অফিসে যেতে হতো মানুষকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও এই রকম কোনও কর্মসূচি চালু করেননি। তবে ২০১৬–তে দ্বিতীয় বার তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে জনসংযোগের জন্য ‘দিদিকে বলো’ নামে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছিলেন তিনি। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে পারতেন। যদিও সেক্ষেত্রেও অধিকাংশ সমস্যার সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী নিজের বাড়িতে বসে সপ্তাহে দু’দিন দু’ঘন্টা করে সাধারণ মানুষের অভাব–অভিযোগ শোনেন এবং তার সমাধানে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সরাসরি সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে পদক্ষেপ করলে প্রশাসনের উপরে সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়ে। দূর হয় নিয়মের বেড়াজাল। আমলাতন্ত্রের ঢিলেমি অতিক্রম করে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতার দরবার’ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গোরক্ষপুর বা লখনউয়ে যোগী তাঁর সরকারি বাসভবনে নিজেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনেন। বিজেপি শাসিত ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ‘জনশুনানি’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ‘জন–দরবার’ বসান প্রতি সোমবার। ভোপালের শ্যামলা হিলসে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত টানা দু’ঘণ্টা চলে এই দরবার।

    ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘জনদর্শন’। রায়পুরে তাঁর বাসভবনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে এই ‘জনদর্শন’। সেখানে জমা পড়া আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। ‘জনদর্শন’ থেকে অভিযোগগুলি পোর্টালে নথিভুক্ত করা হয়। সেই সমস্যার নিষ্পত্তি হলো কি না, তা নজরদারির জন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও ‘সিএম জন সেবাসদন’ নামে একটি কর্মসূচি চালান। সপ্তাহে কোন কোন দিন এই দরবার বসবে, তার আপডেটেড সাপ্তাহিক শিডিউল দিল্লি সরকারের পোর্টালে প্রকাশ করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)