• ডবল ইঞ্জিনের ‘উপহার’, বঙ্গে ভোটে জিততেই ৩ রেল প্রকল্পে ছাড় কেন্দ্রের
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক সপ্তাহও হয়নি, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। টানা ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসন হটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ও অতীত! তাই পালাবদলের পরই কেন্দ্রের ‘উপহার’ পেল বাংলা। রাজ্যের আটকে থাকা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন দিল রেলমন্ত্রক। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তিনটি পৃথক চিঠি দিয়ে প্রকল্পগুলি অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৭.১৫ কিমি ডবল লাইন পাতা হবে। সেই কাজের অনুমোদন দিয়েছে রেল। কলকাতা ও রাজস্থানের জয়পুরের মধ্যে একটি নতুন দূরপাল্লার ট্রেন চালু করার কথা জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। চালু হতে চলেছে সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা (জয়পুর) এক্সপ্রেস ভায়া খড়্গপুর। ট্রেনটির নম্বর ১৮০৬১/১৮০৬২। সেই সঙ্গে শালবনী থেকে আদ্রা (১০৭ কিমি) পর্যন্ত তৃতীয় লাইনের কাজ শুরু হবে। তার আগে এই প্রকল্পের ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট বা  ডিপিআর তৈরির জন্য ফাইনাল লোকেশন সার্ভের (এফএলএস) অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। 

    রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসার কয়েকদিনের মধ্যে তিনটি রেল প্রকল্পের অনুমোদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বাজেটের সময় তো বটেই, কমবেশি সারা বছর রাজ্যের পূর্বতন সরকার রেল প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এসেছে। তাদের দাবি ছিল, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী বলেই তৃণমূল শাসিত বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করে আসছে মোদি সরকার। রেলমন্ত্রকও তার বাইরে নয়। কখনও নয়া লাইনের প্রস্তাব, কখনও মেট্রো প্রকল্পের বাকি থাকা কাজ শেষ করা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বিমাতৃসুলভ’ আচরণের অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। পালটা সরব হতেন রেলমন্ত্রী সহ কেন্দ্রের শাসক শিবির। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের ‘নেতিবাচক ভূমিকা’ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন বারবার। জমি অধিগ্রহণে সমস্যা, রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির এনওসি না দেওয়া, রাজ্য-কেন্দ্র সমন্বয়ের বদলে অসহযোগিতা ইত্যাদি ইস্যুতে সরব ছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে পালবদলের পর আম জনতার  আশা, আর ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র তত্ত্ব খাটবে না। বরং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারে কিছু বাড়তি সুবিধা জুটতে পারে বাংলার ভাগ্যে। তিনটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে রেলের অনুমোদন মানুষের সেই আশা কিছুটা হলেও পূরণ করবে বলে আশাবাদী শাসক শিবির। 

    এর মধ্যে নিউ জলাপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি ডবল লাইন এবং শালবনী-আদ্রা তৃতীয় লাইন প্রকল্প রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রথমটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটক থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সাধারণ বাসিন্দাদের সুবিধা হবে। জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের প্রভূত সুবিধা হবে আদ্রা-শালবনীর মধ্যে প্রস্তাবিত তৃতীয় লাইনের কাজ শেষ হলে। 
  • Link to this news (বর্তমান)