• গুসকরা ও কাটোয়ায় বন্ধ হল একাধিক বেআইনি টোল প্লাজা
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাস্তা পূর্তদপ্তরের, কিন্তু সেখান থেকে টোল আদায় করত পুরসভা। রাজ্য পুরনিগমকে অন্ধকারে রেখেই এই কাজ চলে এসেছে বছরের পর বছর ধরে। রাজ্যের অনেক পুরসভায় বেআইনি টোল প্লাজা গড়ে উঠেছিল ব্যাঙের ছাতার মতো। রাজ্যে পালাবদল হতেই গুসকরা ও কাটোয়া শহরের সেইরকম একাধিক বেআইনি টোল প্লাজার ঝাঁপ বন্ধ হল। 

    বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠকে এই বেআইনি কারবারকে কেউ কেউ আইনি করে নিত। তৃণমূলে আমলে এটাই ছিল দস্তুর। গুসকরা শহরে তিনটি রাস্তায় টোল থেকে আদায় করত পুরসভা। তারমধ্যে দু’টি টোল ছিল পূর্তদপ্তরের অধীনে থাকা রাস্তার উপর। গুসকরা শহরে ধারাপাড়া, শিরিষতলা ও নিউটাউনের রবীন্দ্রসরণি রোড মিলে তিনটি টোল প্লাজা ছিল। তারমধ্যে রবীন্দ্রসরণি রোড বাদে ধারাপাড়া ও শিরিষতলা দুটো টোলই ছিল পূর্তদপ্তরের রাস্তার উপর। গুসকরা পুরসভার তিনটি টোল থেকে মাসে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বেশি আয় ছিল। শিরিষতলা টোলে ১২ জন, ধারাপাড়া ও নিউটাউনে ৯ জন করে কর্মী ছিল। শহরের বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসন সবই জানত। তা সত্ত্বেও এতদিন তারা চোখে ঠুলি পড়ে বসেছিল। তা না হলে পূর্তদপ্তরের রাস্তায় পুরসভা কীভাবে দশ বছরের বেশি সময় ধরে টোলের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি চালিয়ে গিয়েছে। ওই টাকার হিসাব পুরসভাকে দিতে হবে। অস্থায়ী কর্মীদের একাংশ বলছেন, আমাদের পারিশ্রমিক পুরসভা দিতে পারছে না, অথচ ওই তিনটি টোল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে গিয়েছে। কার পকেটে ঢুকল ওই টোলের টাকা? গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলছেন, ওই তিনটি টোল দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভা পরিচালনা করত। প্রশাসন মৌখিক ভাবে বন্ধ করতে বলায় আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আর পশুহাটও বন্ধ করে দিয়েছি। সেখান থেকেও পুরসভা মাসে প্রায় আড়াই-তিন লক্ষ টাকা আয় করত। এসব টাকা পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বাবদে খরচ করা হতো। পাশাপাশি কাটোয়া শহরে একটি টোল আদায় করার গেট ছিল পুরসভার। শহরের রেলগেটের কাছে ছিল সেটি। পুরনিগমকে অন্ধকারে রেখেই সেখানে দিনের পর দিন টোল আদায় করা হত বলে অভিযোগ। সেটাও বন্ধ করা হয়েছে। কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমলাকান্ত চক্রবর্তী বলেন, আমাদের প্রশাসন টোল আদায় বন্ধ করে দিতে বলায় আমরা তা করেছি। ওই টোলটি লিজ দিয়ে চালানো হত। 
  • Link to this news (বর্তমান)