• তমলুক শহরের দাপুটে তৃণমূল নেতা চঞ্চল ধৃত
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জায়গা জমি নিয়ে ঝামেলায় চিকিৎসককে মারধর, হুমকি ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তমলুক শহরের দাপুটে তৃণমূল নেতা চঞ্চল খাঁড়া। ১৪মে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শহরের ধারিন্দার বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক পার্থসারথি মান্না তমলুক থানায় এফআইআর করেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থানা থেকে বাহিনী গিয়ে ওই তৃণমূল নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে আনে। তারপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। শুক্রবার দুপুরে ধৃত তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার কাউন্সিলার চঞ্চলকে থানা থেকে বের করে তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সোজা পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে তোলা হয়। বিচারক ধৃত নেতার সাতদিনের পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেন। আগামী ২২মে ফের আদালতে পেশ করা হবে।

    চঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহ সভাপতি পদে আছেন। পাশাপাশি তিনি ২০নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। ওই ওয়ার্ডে ‘বয়েজ স্পোর্টিং’ নামে এক ক্লাব সংলগ্ন ৫.৬ডেসিমল জমি কিনেছেন পার্থসারথিবাবু। সেই জমি নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। ওই ক্লাবের কিছুকর্মকর্তা চঞ্চলের নাম ভাঙিয়ে রাতদিন ওই চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের উপর হুমকি-ধমকি থেকে বাড়িতে বোমাবাজি সহ নানা ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে বারবার ওই চিকিৎসক চঞ্চলের কাছে ছুটে যান। সালিশির নামে কাউন্সিলার ক্লাবের পক্ষ নেওয়ায় জট মেটেনি। বরং ধারাবাহিকভাবে অত্যাচার চলত।

    ওই চিকিৎসকের একমাত্র কন্যা লন্ডনে পড়াশোনা করেন। চিকিৎসকের স্ত্রী ও তাঁর মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও জুটত। ২০২১সালে ভোটের ফল প্রকাশের পর ওই চিকিৎসকের বাড়িতে বোমা পড়ে। চঞ্চলকে সামনে রেখে চিকিৎসকের কেনা জমি হাতানোর চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। ক্লাবের কিছু মাতব্বর সেই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত। এনিয়ে বেশ কয়েকবার থানায় এফআইআর করেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু, তৃণমূল সরকারের শাসন কালে চঞ্চল ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখায়নি তমলুক থানার পুলিশ। রাজ্যে পালাবদল হতেই বিজেপি নেতৃত্ব ওই চিকিৎসকের পাশে দাঁড়ায়। তিনি নিজেও ভরসা পান। গত ২৯ এপ্রিল রাত ৮টা নাগাদ ওই চিকিৎসক আক্রান্ত হন। চঞ্চল ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বলে ১৪ মে বৃহস্পতিবার তমলুক থানায় এফআইআর করেন পার্থসারথি। তারপরই ওই নেতাকে থানায় তুলে এনে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ওই চিকিৎসকের স্ত্রী বলেন, পাঁচবছর ধরে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছি, সেটা আমার পরিবার আর ঈশ্বর জানে। এই ধকল সহ্য করতে না পেরে আমি মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছি। বাড়ি থেকে বাইরে বের হলেই নানারকম হুমকি দিত ক্লাবের ছেলেরা। চঞ্চল থ্রেট দিয়েছে। মিটমাট করার নামে পার্টি অফিসে রাত সাড়ে ১২টায় ডেকে এক-দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রেখে তারপর সাক্ষাৎ করত। তারপর ভয় দেখাত। চঞ্চল জামিন পাওয়ার পর আমাদের আবার কী হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছি। বৃহস্পতিবার তাঁকে আটক করার পর দেখি, ক্লাবের ছেলেরা আচমকা ভোল পালটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি টাঙাচ্ছে। আমরা যাতে যথাযথ নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে পারি, সেটাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি রাখছি।

    জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ৪মে ভোটের ফল বেরনোর পর জেলার নানাপ্রান্তে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কেস, গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। আইনের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।
  • Link to this news (বর্তমান)