• পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পকেটে টান, পাম্পে কার্যত ‘রেশনিং’ ব্যবস্থা
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঝালদা: মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘের সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক স্তরে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তেই দেশজুড়ে পেট্রল, ডিজেল ও সিএনজির মূল্যবৃদ্ধিতে মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মানুষের। শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, পুরুলিয়া জেলার পাম্পগুলিতে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বসীমা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    গত কয়েকদিন আগেও পুরুলিয়ায় পেট্রলের দাম ছিল প্রতি লিটারে ১০৬.৭৯ টাকা, যা একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। অন্যদিকে, ডিজেল ৯৩.৪৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬ টাকা। প্রতি লিটারে তিন টাকারও বেশি এই বৃদ্ধি মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে বড়োসড়ো ধাক্কা দিয়েছে।

    পুরুলিয়া জেলার ঝালদা থেকে শুরু করে বাঘমুণ্ডি, বলরামপুর এমনকি পুরুলিয়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত এক চিত্র। পেট্রল পাম্পগুলি থেকে বেশি তেল ভরতে দেওয়া হচ্ছে না। বাইক আরোহীদের কোথাও সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, আবার কোথাও ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। বড়ো গাড়ির ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম। ছোটো চারচাকা গাড়িতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং ট্রাকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্প বিশেষে এই লিমিটের কিছুটা হেরফের হলেও মোটের উপর তেল নিয়ে কার্যত ‘রেশনিং’ শুরু হয়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে।

    হঠাৎ করে তেলের এই আকাল ও দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিত্যযাত্রী ও পেশাদার চালকরা। পুরুলিয়ার বাসিন্দা তাপস কর্মকার জানান, পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পকেটে টান পড়েছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশ যেভাবে তেল সরবরাহ বজায় রাখছে, সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমরা সেটা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি।

    প্রবীণ বাসিন্দা নৃপেন কর কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাঁর কথায়, এখনকার ছেলেমেয়েরা বাইক ছাড়া দু’পা এগোয় না। গাড়ির চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রত্যেকের উচিত তেলের অপচয় বন্ধ করা। খুব প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা দরকার।

    জ্বালানির এই জোগান ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে ঝালদার একটি পেট্রল পাম্পের কর্মচারী গৌরব মাহাত বলেন, আমরা রীতিমতো অসহায়। তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ঝালদায় আমাদের পেট্রল পাম্প কিন্তু তেল নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারে পৌঁছানোয় সংস্থাগুলি থেকে সরবরাহ কমেছে। আমাদের স্টকে যেটুকু তেল আছে, তা দিয়ে সব গ্রাহককে পরিষেবা দিতেই আমরা তেলের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছি। মানুষ এসে ভরতি ট্যাংক তেল চাইছে, কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। ফলে প্রায়ই বচসা হচ্ছে। আমরা চাই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক, কারণ এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন।
  • Link to this news (বর্তমান)