কাটোয়ায় রেলফটক ঘিরতে গিয়ে বাধার মুখে রেলকর্মী ও আরপিএফ
বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার কেশিয়া পাড়ায় রেলফটক ঘিরতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয় আরপিএফকে। শুক্রবার বিকালে আরপিএফ বাহিনীর উপর পাথর বৃষ্টি করা হয়। রক্তাক্ত হন পাঁচজন আরপিএফ জওয়ান। লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। বাসিন্দাদের প্রবল বিক্ষোভের জেরে কাজ বন্ধ রেখে পিছু হটতে হয় রেলকর্মীদের। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
কাটোয়া স্টেশন থেকে কিছুটা দূরেই কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখায় রেললাইন টপকে যাতায়াত করতে হয় চার-পাঁচটি পাড়ার বাসিন্দাদের। ঘুরপথে যাতায়াত এড়াতে স্থানীয়রা রেললাইন টপকেই দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করতেন। ওই শাখা দিয়ে বন্দেভারতের মতো বুলেট ট্রেন যাতায়াত করে। তাই রেল কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস ধরেই রেলফটক ঘিরতে চাইছে। কিন্তু, বারবার বাসিন্দাদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে পিছু হটতে হচ্ছে। শুক্রবারও আরপিএফ নিয়ে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার ওই কেশিয়া রেলফটক ঘিরতে যায় রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আবার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা আচমকা আরপিএফের উপর পাথর ছুঁড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। পাথরের আঘাতে জখম হয়েছেন পাঁচজন আরপিএফ জওয়ান। এরপরেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে উত্তেজিত জনতাকে হটাতে লাঠিচার্জ শুরু করে আরপিএফ।
কাটোয়ার আরপিএফ ইন্সপেক্টর বিএন সিনহা বলেন, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। এরপর তাঁরা যা নির্দেশ দেবেন, আমরা সেটাও করব।
কাটোয়া পুরসভার ১৩ ও ১৯ নম্বর সহ আশপাশের ওয়ার্ড নিয়ে কয়েকটি পাড়া রয়েছে কাটোয়া স্টেশন লাগোয়া। কেশিয়া, মাঠপাড়া, দরগাতলা, কুলতলা এসব পাড়ার লোকজন কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার রেললাইনের উপর দিয়েই যাতায়াত করেন। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা এই রাস্তা দিয়েই কাটোয়া শহরে যাতায়াত করি। না হলে আমাদের অনেকটা ঘুরপথে যেতে হবে।
রেল কর্তৃপক্ষ ওই ফটক ঘেরার কাজ চার মাস আগেই শুরু করেছিল। সেসময়েই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় ওই এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে ঠিকাদার এজেন্সির কর্মীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। সে সময় স্থানীয়দের চাপে পড়ে আট ফুট চওড়া অংশ যাতায়াতের জন্য ছেড়ে রেখে বাকি অংশ ঘেরা হয়েছিল। এভাবেই চলছিল। এদিন ফের রেলের পক্ষ থেকে ওই অংশ ঘিরতে গেলেই শুরু হয় বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র