• স্ত্রীর অভিযোগ ও ছেলের সাক্ষী, বাবাকে খুনে ১০ বছর কারাদণ্ড
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ: বৃদ্ধ বাবাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার বনগাঁ এডিজে ২ আদালতের বিচারক কুমকুম সিংহ এই নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দোষীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও আড়াই বছর জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

    ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর বনগাঁ ঢাকাপাড়ার বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস (৭২) কে বঁটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে ছেলে তপন বিশ্বাস। পরদিন হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের। এই ঘটনায় মৃতের বউমা বাসন্তী বিশ্বাস থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ঘটনার মূল সাক্ষী ছিল তপন বিশ্বাসের ছেলে তন্ময় বিশ্বাস। ঠাকুরদাকে খুন করায় বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন নাতি।

    জানা গিয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের সঙ্গে ছেলে তপন বিশ্বাসের বিবাদ চলছিল। ঘটনার দিন পুকুরে গাছের ডাল ফেলা নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে ঝামেলা হয়। এরপর বাড়ির উঠোনে বসেছিলেন চিত্তরঞ্জনবাবু। হঠাৎ ঘর থেকে ধারালো বঁটি এনে বাবাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে ছেলে। এরপর বঁটি নিয়ে উঠোনে লম্ফঝম্প শুরু করে। বলে, ‘সামনে যে আসবে তাঁকেই কুপিয়ে দেব’। সেসময় ভয়ে কেউ সামনে যায়নি। শ্বশুর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ছেলেকে খবর দেন বাসন্তী বিশ্বাস। ছেলে তন্ময় এসে ঠাকুরদাকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে কলকাতা স্থানান্তরিত করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর বিকেলে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের। ওইদিন গ্রেপ্তার হন তপন বিশ্বাস। এরপর থেকে জেলে ছিলেন। বৃহস্পতিবার আদালত তপনকে দোষী সাব্যস্ত করে। শুক্রবার সাজা শোনান বিচারক। জানা গিয়েছে, ১৪ জন সাক্ষী থাকলেও ৮ জন আদালতে সত্যি গোপন করেছিলেন। মূল সাক্ষী মৃত ব্যক্তির নাতি সহ ৬ জনের সাক্ষ্য দানে দোষীকে সাজা দেয় আদালত। সরকারি পক্ষের আইনজীবী জয়দেব হালদার বলেন, দোষী ব্যক্তি জেলে থাকাকালীন একাধিকবার জামিনের আবেদন করেন। দোষী ব্যক্তি আগামীতে উচ্চ আদালতে যেতে চাইলে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইডকে সাহায্যের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
  • Link to this news (বর্তমান)