বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রেখে মৃত্যু প্রাক্তন বাম বিধায়কের, স্কুল-কলেজ নির্মাণ করে খ্যাত পাঁচলার মাস্টারমশাই
বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : গ্রামে শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে স্কুল-কলেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এরপর ভেবেছিলেন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে ভালো। তাহলে গ্রামের কাউকে উচ্চশিক্ষার জন্য আর বাইরে যেতে হবে না। ৯০ বছর বয়স হলে গেলেও সে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন সন্তোষকুমার দাস। তবে স্বপ্নপূরণ হল না। শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হল পাঁচলার মাস্টারমশাই সন্তোষকুমার দাসের। তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। একবার বিধায়কও হয়েছিলেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিপ্লবী নানু ঘোষের হাত ধরে ফরোয়ার্ড ব্লকে যোগদান করেছিলেন সন্তোষবাবু। ১৯৬৪ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেছিলেন। পঞ্চায়েত প্রধানও হন। ১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচলা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই পাঁচলার সামন্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সন্তোষ। তিনি মা-বাবার একমাত্র সন্তান। জন্মের তিনমাস পর তাঁর বাবা কেশবচন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়। তারপর মা উমাদেবীর সঙ্গে গঙ্গাধরপুর গ্রামে মামার বাড়ি চলে যান। সন্তোষবাবু শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তব করার লক্ষ্যে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএড থেকে ডিএল এড কলেজ সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তবে শুধু শিক্ষার বিস্তার নয় গ্রামাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলোর উন্নতির জন্য আই এফ এ স্বীকৃত ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ে তুলেছিলেন। এছাড়া সমাজসেবার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতে সন্তোষকুমার তৈরি করেছিলেন কেশব উমা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দুঃস্থ পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছিলেন। শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। প্রয়াত শিক্ষাবিদকে শেষ শ্র্রদ্ধা জানাতে তাঁর তৈরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সকলেরই আক্ষেপ, শিক্ষা বিস্তারে নিঃশব্দে কাজ করে গেলেও জাতীয় শিক্ষকের মর্যাদা তাঁকে দেওয়া হয়নি।-নিজস্ব চিত্র