নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাসতের চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূলের এই চিকিৎসক সাংসদ। শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে তাঁর পোস্ট যাবতীয় বিতর্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ বর্ষীয়ান সাংসদের এমন পোস্টে যথারীতি শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তাঁর এই পোস্টের নীচে কমেন্টের জায়গায়ও শুরু হয়ে গিয়েছে তুমুল বিতর্ক। তৃণমূলের একাংশ এই পোস্টকে সাংসদের ‘হতাশার প্রকাশ’ বলেই মনে করছেন। অন্য শিবিরের মতে, এটি স্পষ্টভাবে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষের ইঙ্গিত। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের পদে ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ওই পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর দলনেত্রীর নির্দেশে সেই দায়িত্ব পান কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কিন্তু বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে দলের সাংসদদের বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুনরায় সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের প্রচার পর্বেই মমতা ও কাকলির মধ্যে দূরত্বের কিছু ইঙ্গিত মিলেছিল। বারাসতে নির্বাচনি জনসভা করতে এসে স্থানীয় স্তরের নেতানেত্রীদের নাম উল্লেখ করলেও মঞ্চের প্রথমের সারিতে থাকা কাকলিদেবীর নাম নেননি মমতা। দলের অন্দরে আরও খবর, সাংসদই বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি। তাঁর অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভার কেন্দ্রের ফলাফল এবার যথেষ্ট খারাপ হয়েছে। তাছাড়া, এবার প্রচারেও জেলা সভাপতিকে ততটা দেখা যায়নি বলে রিপোর্ট গিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। এসব কারণেই কালীঘাটের বৈঠকে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকে। আর সেই সিদ্ধান্তের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলির পোস্ট নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এ কি শুধুই আবেগের বহিঃপ্রকাশ, নাকি দলের ভিতরে অস্থিরতার ইঙ্গিত? তবে এই বিতর্ক নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি বারাসতের সাংসদ। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আমি যা বলার পোস্টেই বলেছি। এর বাইরে কিছু বলব না।’