• সংশোধনাগারে উদ্ধার ২৩টি মোবাইল, সাসপেন্ড ২ কর্তা, প্রেসিডেন্সি জেলের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংশোধনাগার তথা জেলের ভিতর থেকেই নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। তবে এই ‘প্র্যাকটিস’ একদিনের নয় বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার প্রমাণ মিলেছে প্রেসিডেন্সি জেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বন্দির আত্মীয়ের থেকে প্রেসিডেন্সি জেলের ভিতরে অপরাধীরা ব্যাপক হারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। তৎক্ষণাৎ, তাঁর নির্দেশে প্রেসিডেন্সি জেলে হানা দেয় পুলিশ এবং জেলের পদস্থ কর্তারা। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজির তত্ত্বাবধানে চলা অভিযানে সেই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। একটি স্মার্ট ফোনসহ উদ্ধার হয় ২৩টি মোবাইল ফোন। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে দুই জেল অধিকর্তাকে সাসপেন্ড বা বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেল কাণ্ডে জড়িত অভিযোগে এদিন সাসপেন্ড করা হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারিনটেনডেন্ট এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘড়াইকে। এই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের অন্যান্য জেলেও যাতে এর পুনরাবৃত্তি না-হয়, সে-বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দমদম থেকে সেন্ট্রাল জেলেও এমন অভিযোগ আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

    এদিন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, কারা দপ্তরের সচিব স্মারকী মহাপাত্র, ডিজি কারেকশনাল হোম এন রমেশ বাবুসহ রাজ্যের তাবড় অফিসারদের নিয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলিও গণমাধ্যমের সামনে সেখানে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ওইসঙ্গে তাঁর সাফ বার্তা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গোটা রাজ্যের সমস্ত আধিকারিককে আমরা বার্তা দিতে চাই যে, এবার থেকে সতর্ক হয়ে নিজের জবাবদিহিতা ও দায়িত্ব পালন করুন। তিলজলার ঘটনার পর কর্তব্যে অবহেলার জন্য এটি দ্বিতীয় বড়ো পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্সি জেলের এই ‘নেক্সাসের’ পিছনে অর্থের লেনদেন, রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবশালী কেউ থাকতে পারেন। জেলের বাইরে থেকে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদেরও ভিতরে যেতে হবে।’  সন্দেশখালির শাহজাহানসহ জেলে বসে যারা নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এদিন।
  • Link to this news (বর্তমান)