নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় বিরোধী স্বরকে বাড়তি মর্যাদা দিয়ে রাজধর্ম পালনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সর্বসম্মতভাবে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বসু। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রথম ভাষণেই শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষের মন জয় করলেন ভবানীপুরের বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, আজ ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের অম্লমধুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাই না। সাংবিধানিক রীতি, বিধানসভার নিজস্ব রুলস ও গণতন্ত্রের পরম্পরা মেনে সকলে মতামত প্রকাশ করবেন। আমাদের বিধায়ক সংখ্যা বেশি হলেও এবার থেকে বিরোধীরা বেশি করে বলার সুযোগ পাবেন। বিপক্ষের জনপ্রতিনিধিরা যেকোনো বিষয়ে মন্ত্রীদের চিঠি দিলেন উত্তর পাবেন। জেলার প্রশাসনিক সভায় বিরোধী এমএলএ’রা আমন্ত্রণ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই মহতী সদন মারামারি কিংবা কুরুচিকর ভাষা প্রয়োগের জায়গা নয়। বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস অধিবেশনের বাইরে থাকতে হবে না। এদিন বিধানসভার সূচনা হয় বন্দে মাতরম্ সংগীত দিয়ে।
নিজের প্রথম ভাষণে বিধানসভা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুবাবু কথায়, বহু প্রত্যাশা নিয়ে জনতা আমাদের বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। আমরা তাঁদের প্রতি দায়বন্ধ। অধিবেশনে বিধায়কদের উপস্থিতি, ভূমিকা সবটাই জনতার জানা উচিত। তাই আগামীতে বিধানসভা অধিবেশন পর্ব লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সবাই দেখতে পাবেন। তিনি আরো বলেন, এখনো আমাদের এখানে ভোটাভুটির সময় কাগজে লিখে বিধায়কদের মতামত প্রকাশ করতে হয়। সেই ব্যবস্থা বদলে ইলেকট্রনিং ভোটিং মেশিন চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নয়া বিধানসভা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এদিন তিনি বলেন, আসন পুনর্বিন্যাসে বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যা বাড়বে। সেক্ষেত্রে নয়া বিধানসভা ভবন গড়তে রাজ্য সরকার সবরকমভাবে সাহায্য করবে।
অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু তারপর বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বক্তব্য রাখার অনুরোধ করেন। বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, আপনারা বলেছিলেন, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। ভোট-পরবর্তী হিংসায় অসংখ্য মানুষ ঘরছাড়া। তাঁদের ভরসা ফিরিয়ে আনুন। দল প্রতিষ্ঠার পর জোড়াফুল শিবিরের প্রথম বিধায়কের এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠে দুশোর বেশি গেরুয়া সদস্য। সঙ্গে সঙ্গে নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান পরিষদীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সতীর্থদের থামিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদের বলতে দিন।
পরে শোভনদেবের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেন, কেউ ঘরছাড়া আছে বলে আমার জানা নেই। যদি থাকে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে তার তালিকা দিন। তবে একটি শর্তও আরোপ করে শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর হয়েছে। সেই তালিকায় কারো নাম থাকলে তাকে জেলে যেতে হবে। আর সেই অভিযোগ না-থাকলে সসম্মানেই এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাকে।
পরে বিধানসভার অডিটোরিয়ামে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। তোলাবাজি-কাটমানি বন্ধ করতে জনপ্রতিনিধিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।