প্রথম দিনেই গঠনমূলক বিরোধিতার অঙ্গীকার বাম জোটের ২ বিধায়কের
বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় প্রথম দিনের বক্তব্যে নজর কাড়লেন বামজোটের দুই বিধায়ক। ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) ও ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি ‘গঠনমূলক বিরোধিতা’র অঙ্গীকার করলেন। রানা বললেন, ‘এই হাউস আসলে বিরোধীদের জন্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংখ্যার জোরে সরকার যাতে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর চাপা দিতে না-পারে তা দেখার দায়িত্ব অধ্যক্ষের।’
পাঁচবছর বাদে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা পেয়েছে সিপিএমের একজন বিধায়ক। শুক্রবার বক্তব্য রাখতে উঠতে রানা প্রথমেই পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রীদের কথা তুলে ধরেন। সেই তালিকায় প্রফুল্ল ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থশংকর রায় থেকে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ছিল। তাঁর কথায় উঠে আসে ডোমকলের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক আনিসুর রহমানের কথাও। তিনি বলেন, ‘ভেবে দেখুন স্যার, আমি এমন একটা দল করি যাকে বাদ দিয়ে ভারতের সংসদীয় রাজনীতির আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’ অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, হাসিম আব্দুল হালিমের কথা তুলে ধরেন। রানা বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়াই বিরোধীদের সবচেয়ে বড়ো কাজ।’ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে রানা বলেন, ‘রথীন মানে সারথি। আমার বিশ্বাস, এই বিধানসভার সারথি হিসাবে আপনি সকলকে নিয়েই পথ চলবেন।’
অন্যদিকে, আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদের গলাতেও একই কথা শোনা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার ও বিধানসভার লাইভ স্ট্রিমিংয়ের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান নৌশাদ। তিনি বলেন, ‘অহেতুক বিরোধিতা করব না। মাসের শেষে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। মানুষের জন্য কী বক্তব্য রাখছি, তা জানা দরকার।’ অধিবেশন শেষে রানা যান আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য দপ্তরে। সেখানে এদিন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক বসেছিল। তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন তিনি। আজ, শনিবার থেকে দুদিনের বৈঠক বসতে চলেছে সিপিএমের রাজ্য কমিটির।