বাড়ির কাছে সবে মাত্র খোঁড়া হয়েছিল একটি গভীর বোরওয়েল বা কুয়ো। খেলতে গিয়ে সেখানেই পড়ে গিয়েছিল চার বছরের এক শিশু। শুক্রবার রাতে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের দাসুয়া রোডের চক সামানা গ্রামের ঘটনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয়রা। দীর্ঘ প্রায় ৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপারেশনের পরে অবশেষে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারের পরে তাকে হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল।
সূত্রের খবর, শিশুটির নাম গুরকরণ সিং (৪)। শুক্রবার বিকেলে সে তার বাড়ির সামনে খেলা করছিল। কিন্তু আচমকা পা পিছলে কুয়োয় পড়ে যায় সে। কুয়ো তৈরির কাজ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), পাঞ্জাব পুলিশ, দমকল এবং স্থানীয় ভলান্টিয়াররা একসঙ্গে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। NDRF-এর এক কর্মী কুয়োর মধ্যে ঢুকে গুরকরণকে কোলে তুলে নিয়ে উপরে উঠে আসেন। গুরকরণের মুখ মাটিতে মাখামাখি হয়ে গেলেও সে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল।
NDRF-এর আধিকারিক পঙ্কজ শর্মা জানিয়েছেন, এই উদ্ধার কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। ওই এলাকায় বেলে মাটি রয়েছে, যা খুবই আলগা প্রকৃতির। ফলে মাটি বারবার ধসে নীচে পড়ে যাচ্ছিল। জেলাশাসক আশিকা জৈন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামলাতে প্রথমে কুয়োর ভিতর ক্যামেরা এবং অক্সিজেনের পাইপ পাঠানো হয়েছিল। ক্যামেরার ফুটেজে শিশুটিকে নড়াচড়া করতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু পরে মাটি ধসে পড়ার কারণে ক্যামেরা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর পরে বোরওয়েলের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীর একটি গর্ত খোঁড়া হয়। সেখান থেকে একটি ছোট টানেল বা সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটির কাছে পৌঁছন উদ্ধারকারীরা।
উদ্ধার কাজে আর্থমুভারও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে শিশুটির সুরক্ষার কথা ভেবে অত্যন্ত সতর্ক ভাবে কাজ করা হয়। অপারেশনের মাঝে শিশুটিকে শান্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। মা পাইপের মাধ্যমে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে সে ভয় না পায়।
পাঞ্জাবের মন্ত্রী রাভজোত সিং এবং আপ সাংসদ রাজ কুমার চাব্বেওয়াল সারা রাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো কাজের তদারকি করেন। জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার সন্দীপ কুমার মালিক এই সফল অপারেশনের জন্য NDRF, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কুর্নিশ জানিয়েছেন।