• নিয়ম না মানলেই ফাইন! জরিমানার ভয়ে হেলমেট কেনার হিড়িক
    এই সময় | ১৬ মে ২০২৬
  • প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়

    আইন আগেও ছিল, হেলমেট না পরলে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। তবে তাতে কর্ণপাত করতেন না বাহুবলী, এলাকার দাদারা। নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ হেলমেট নিয়ে কড়া মনোভাব নেওয়ায় রাতারাতি ছবিটা বদলেছে ভাঙড়ে। বহু জায়গায় হেলমেট কেনার হিড়িক বেড়েছে। বুধবার সারাদিনে ভাঙড় ট্র্যাফিক গার্ড এলাকায় বিনা হেলমেটের তিন-চার জন বাইক আরোহীকে জরিমানা করা হয়, বাকিদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সারাদিনে প্রায় ৬১ জন বিনা হেলমেটের যাত্রীকে জরিমানা করে ট্র্যাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীরা। বেআইনি জায়গায় পার্কিং করার অভিযোগে চারটি গাড়ির মালিককে জরিমানা করা হয়। শুক্রবার সব ব্যাপারেই সংখ্যাটা বেড়ে সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই।

    ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি ভাঙড় ডিভিশনের পথ চলা শুরু হয়। সেই সময় ভাঙড়ের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যাবতীয় রাস্তা–সহ বাসন্তী রাজ্য সড়কের ভোজেরহাট থেকে চণ্ডীপুর পর্যন্ত ট্র্যাফিক সামলানোর দায়িত্ব পড়ে ভাঙড় ডিভিশনের কাঁধে। শুরুতে ট্র্যাফিক আইন এবং সিগন্যাল বুঝতে বেশ খানিকটা সময় যায় ভাঙড়বাসীর। হেলমেট পরা নিয়েও প্রচুর অনীহা দেখা যায়। আবার জীবনতলা, ক্যানিং এলাকার কেউ ধরা পড়লে ওই এলাকার হেভিওয়েট নেতাদের ফোন চলে আসত বিনা জরিমানায় ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সে সব এখন অতীত। তৃণমূলের ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর সুপারিশ করা অনেক নেতাই ‘গৃহবন্দি’।

    ফলে হেলমেট ছাড়া যারা এতদিন বাইকে সওয়ার হতেন, তারাই এখন হেলমেট কিনছেন মাথা বাঁচাতে। বাইকের শোরুম, হেলমেটের দোকান ছাড়াও ফাস্ট ফুডের মত রাস্তার দু’পাশে ঢেলে হেলমেট বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের জরিমানার ভয়েই হেলমেট পরা শুরু করেছেন ভাঙড়বাসী।

    সূত্রের খবর, বাসন্তী রাজ্য সড়কের ঘটকপুকুর, পাগলাহাট, চণ্ডীপুর, বিবিরআইট ছাড়াও পোলেরহাট, পাকাপোল, গাবতলা, শোনপুর, কাঁঠালিয়া, বোদরা, চন্দনেশ্বর বাজারে ট্র্যাফিক পুলিশের নজরদারি বেড়েছে। ক্যামেরাও বসেছে ওই সমস্ত বাজারে, লাগানো হয়েছে ট্র্যাফিক সিগন্যাল। কেউ সিগন্যাল ভাঙলে বা হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে পুলিশ ধরপাকড় করছে। কেন হেলমেট পরা জরুরি তা জনে জনে বোঝাচ্ছেন ভাঙড় ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি মিদ্দা ইমামউদ্দিন।

    পুলিশের ভয়েই ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকায় হেলমেট বিক্রি বেড়েছে বলে জানালেন হেলমেট বিক্রেতা মারুফ মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আগে নেতাদের সুপারিশে বিনা হেলমেটের যাত্রীকে ছাড়তে বাধ্য হতো পুলিশ। এখন সেই বাধ্যবাধ্যকতা না থাকায় পুলিশ জরিমানার বহর বাড়াচ্ছে। তাই ১০০০ টাকা জরিমানা দেওয়ার থেকে ৫০০ টাকার হেলমেট পরা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।’ পরিসংখ্যান বলছে, ভাঙড়ে যে কয়েকটি বাইকের শোরুম, হেলমেটের দোকান আছে সেখানে আগে যা হেলমেট বিক্রি হতো, এখন তার তিন থেকে চারগুণ হেলমেট বিক্রি হচ্ছে। লোকে দু’চাকা, চারচাকা গাড়ির ইনশিওরেন্স, পলিউশনের নথি আপডেট করে রাখছেন।

    কলকাতা পুলিশের এক ট্র্যাফিক কর্তা বলেন, ‘মানুষকে অযথা হয়রানি করা, জরিমানা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য বাইক চালক ও আরোহীদের মাথা বাঁচানো।’

  • Link to this news (এই সময়)