সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
বাংলার সংখ্যালঘুদের পাশে থাকবে দল ও নবগঠিত বিজেপি সরকার৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত 'সব কা সাথ-সব কা বিকাশ নীতি' মেনেই করা হবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের সার্বিক বিকাশ— শুক্রবার স্পষ্ট জানালেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি জামাল সিদ্দিকি৷
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরে বিরোধীদের একাংশ সংখ্যালঘুদের প্রতি বিজেপির মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷ কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজ্যের সংখ্যালঘুদের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে পারে বিজেপি সরকার৷ এই আশঙ্কা উড়িয়ে জামাল সিদ্দিকির দাবি, মোদী সরকারের ঘোষিত 'সব কা সাথ- সব কা বিকাশ' নীতি মেনেই বাংলার সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়ন করবে বিজেপি৷ তাঁর কথায়, 'গত চার দশকে বাংলার সংখ্যালঘুদের প্রকৃত বিকাশ করা হয়নি৷ রাজনৈতিক স্বার্থে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে৷ সামান্য দান–খয়রাতির চটক দেখিয়ে প্রকৃত উন্নয়ন এবং বিকাশের রাস্তা থেকে সংখ্যালঘুদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে৷ এই কারণেই গোটা দেশের মধ্যে সংখ্যালঘুদের আর্থিক অবস্থা সবচেয়ে খারাপ পশ্চিমবঙ্গে৷ আমরা গ্যারান্টি দিতে পারি, আগামী দিনে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে৷ ডাবল ইঞ্জিন সরকার পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘুদের বিকাশ করবেই৷'
তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের জমানাতেই রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমদের অবস্থা সব থেকে খারাপ হয়েছে৷ সিদ্দিকির কথায়, 'তৃণমূল সরকার সব সময়ে দেখাত, তারা সংখ্যালঘু মুসলিমদের সব থেকে বড় হিতৈষী৷ বাস্তবে তা নয়৷ তৃণমূল সরকারের সময়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমরা ক্রমেই পিছিয়ে পড়েছেন৷ বিজেপি ভোটের কথা ভেবে তাঁদের ব্যবহার করবে না৷ সব কা সাথ- সব কা বিকাশ এবং এক ভারত- শ্রেষ্ঠ ভারত নীতি নিয়ে চলি আমরা৷'
সিদ্দিকির যুক্তি, 'পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের জন্য যে মাদ্রাসা শিক্ষা পরিকাঠামো রয়েছে, তার আধুনিকীকরণ হয়নি৷ উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার এই কাজ করেছে সবার আগে৷ দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল স্রোতের সঙ্গে জুড়তে হবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের৷ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীজি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ৷ তিনি নিশ্চয়ই বাংলার সংখ্যালঘু মুসলিম এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিকাশ নিশ্চিত করবেন৷'