দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
এতদিন নানা ভাবে চেষ্টা করেও হুগলি জেলায় বালি পাচার কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই হুগলির আরামবাগ, গোঘাট ও পুরশুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদী থেকে বেআইনি ভাবে বালি উত্তোলনের কাজ কার্যত বন্ধ। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে বালি খাদানগুলো কার্যত শুনশান। কোথাও কোনও কাজকর্ম হচ্ছে না। যে সব ঠিকাদাররা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে খাদান থেকে বালি তুলতেন, তাঁরা সবাই চম্পট দিয়েছেন। ফলে রাস্তায় আর আগের মতো বালি বোঝাই ট্রাকের দেখা মিলছে না। তাতে আশপাশের গ্রামবাসীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও হুগলি এবং হাওড়া জেলায় বালির জোগান তলানিতে এসে ঠেকেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কমে যাওয়ায় বালির দামও চড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনে বালির দাম লরিপিছু ৫০০–৫৫০ টাকা দাম বেড়ে গিয়েছে। ফলে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন গৃহস্থরা।
হুগলির আরামবাগ মহতুমা বরাবরই বালির জন্য বিখ্যাত। গোঘাট, আরামবাগ ও পুরশুড়া বিধানসভা এলাকায় একাধিক বালি খাদ আছে। অভিযোগ, সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বালি অবৈধ ভাবে বাইরে পাচার হয়ে যেত। তারই দৌলতে ফুলেফেঁপে উঠতেন বালি মাফিয়ারা। সেই মুনাফার ভাগ পেতেন তৃণমূলের ছোট, বড়, মাঝারি স্তরের নেতারা। তাতে বালির মূল্যও বেড়ে যেত। এ নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন বিজেপি নেতারা। আরামবাগে ভোটের প্রচারে এসে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বালি পাচার রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। সেই প্রতিশ্রুতি মেনে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত বেআইনি বালি খাদান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সেই নির্দেশিকা বেরোনোর আগেই অবশ্য গোটা আরামবাগ জুড়েই বালি উত্তোলনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ‘নো কস্ট টু এক্সচেকার’ প্রকল্পে যেখানে যেখানে নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছিল, সেই কাজও আপাতত বন্ধ। এর আগে পুরশুড়া–সহ আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্প রূপায়ণে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিবাদে বালির গাড়ি আটকে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন গ্রামবাসীরা। সেই সময় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী নদী থেকে বালি তোলার বিনিময়ে বাঁধ মেরামতির কথা থাকলেও সেই কাজটা ঠিকমতো করছেন না ঠিকাদাররা। উল্টে যতটা বালি তোলার কথা তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ বালি তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছেন ঠিকাদাররা। ঘনঘন বালি ও মাটির গাড়ি যাতায়াতের ফলে গ্রামের রাস্তা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এই ইস্যুতে গ্রামবাসীরা সরব হওয়ার পরে নড়েচ়ডে বসতে বাধ্য হয়েছিল নবান্ন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঠানো হয়েছিল সরকারি প্রতিনিধি দল। তারপরেও বালি পাচার কিছুতেই বন্ধ হচ্ছিল না। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই ছবিটা রাতারাতি বদলে গিয়েছে।
আরামবাগের এক বালি ব্যবসায়ী তথা খাদান মালিক জ্যোছন রায় বলেন, ‘আপাতত সমস্ত খাদই বন্ধ। কোথাও দু’একটা বালিঘাট খোলা আছে। আগে দেখতাম, ভোটের দিন ও গণনার দিন বালি খাদান বন্ধ থাকত। এ বার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই বালি খাদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমরা যাঁরা নিয়ম মেনে বালি খাদান চালাই, তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সাধারণ মানুষেও অসুবিধা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন।’
পুরশুড়ার বাসিন্দা অমিত দাস বলেন, ‘আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরেই বালি খাদান বন্ধ আছে। আগে যাঁরা বালি খাদান চালাতেন তাঁরা রয়্যালটি ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মুনাফা করেছেন। তার ভাগ পেয়েছেন তৃণমূল নেতারা। সেই অনিয়ম রুখতে নতুন সরকার উদ্যোগী হওয়ায় খুশি স্থানীয় গ্রামবাসীরা।’
বিজেপির রাজ্য নেতা তথা পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘বেআইনি ভাবে কোথাও কোনও বালি খাদান চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু একবারের জন্য বলেননি যে বালি খাদান বন্ধ করে দেবো। উনি বলেছেন, বেআইনি কিছু থাকবে না। আমরা এ বিষয়ে হুগলির জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করব আগামী সপ্তাহেই। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
আরামবাগের এক বালি ব্যবসায়ী তথা খাদান মালিক জ্যোছন রায় বলেন, ‘আপাতত সমস্ত খাদই বন্ধ। কোথাও দু’একটা বালিঘাট খোলা আছে। আগে দেখতাম, ভোটের দিন ও গণনার দিন বালি খাদান বন্ধ থাকত। এ বার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই বালি খাদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমরা যাঁরা নিয়ম মেনে বালি খাদান চালাই, তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সাধারণ মানুষেও অসুবিধা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন।’
পুরশুড়ার বাসিন্দা অমিত দাস বলেন, ‘আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরেই বালি খাদান বন্ধ আছে। আগে যাঁরা বালি খাদান চালাতেন তাঁরা রয়্যালটি ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মুনাফা করেছেন। তার ভাগ পেয়েছেন তৃণমূল নেতারা। সেই অনিয়ম রুখতে নতুন সরকার উদ্যোগী হওয়ায় খুশি স্থানীয় গ্রামবাসীরা।’
বিজেপির রাজ্য নেতা তথা পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘বেআইনি ভাবে কোথাও কোনও বালি খাদান চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু একবারের জন্য বলেননি যে বালি খাদান বন্ধ করে দেবো। উনি বলেছেন, বেআইনি কিছু থাকবে না। আমরা এ বিষয়ে হুগলির জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করব আগামী সপ্তাহেই। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’