আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফলতা বিধানসভা এলাকায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনসভাকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগেই বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের। গ্রেপ্তার করা হল জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয় হিসেবে পরিচিত সইদুল খানকে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ফলতা থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সইদুল একটি পরিচিত নাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফলতা অঞ্চলে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় তাঁকে জাহাঙ্গিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা ‘ডান হাত’ হিসেবেই পরিচয় দেওয়া হতো। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি সইদুল খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে ফলতা থানায়। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং নানা ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ, এর মধ্যেই ফলতায় জনসভা করতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে এই গ্রেপ্তারি একটি বড় বার্তা বহন করছে। প্রশাসন যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত বলেও মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফলতা এলাকায় একাধিক অভিযোগ উঠলেও সেইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মত অনেকের। যদিও এই ঘটনায় জাহাঙ্গির বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
সইদুলের গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে পুলিশ। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে যাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর প্রশাসনের।
সব মিলিয়ে, ফলতায় মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগে সইদুল খানের গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে ফলতা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।