• থানার দিকে উড়ে এল ইট, চলল ভাঙচুর, উত্তেজনা আসানসোলে
    আজকাল | ১৬ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার গভীর রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাহাঙ্গির মহল্লা এলাকা। আসানসোল উত্তর থানার অধীনে জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় একদল উন্মত্ত জনতা। ঘটনায় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিরাট পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে আচমকাই শতাধিক যুবক জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে ফেলে। প্রথমে ফাঁড়িকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকশো লোক একসঙ্গে ফাঁড়ির দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। সংখ্যায় কম থাকা পুলিশকর্মীরা প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে প্রাণভয়ে ফাঁড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপরই উত্তেজিত জনতা ফাঁড়ির ভিতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ফাঁড়ির চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, টিভি, কাচের দরজা, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যন্ত ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু পুলিশ ফাঁড়িই নয়, আশপাশে থাকা একাধিক গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় বিরাট পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রথমে লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে এলাকায় পৌঁছান আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি পিভি সতীশ। তাঁর নেতৃত্বে গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে অশান্তির কোনও আশঙ্কা নেই। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। যদিও ঠিক কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। 

    স্থানীয় কাউন্সিলর ফানসাবি আলিয়া বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু যাই হয়ে থাকুক না কেন, এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি। সকলের কাছে আবেদন, কেউ বাড়ির বাইরে বেরোবেন না এবং শান্তি বজায় রাখুন।”

    একই সুর শোনা গিয়েছে প্রাক্তন কাউন্সিলর সাহিনা পরভিন-এর গলাতেও। তিনি বলেন, “এভাবে হামলা চালানো সম্পূর্ণ অন্যায়। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। পুলিশ নিশ্চয়ই আইনি ব্যবস্থা নেবে।”

    ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলায় কারা জড়িত এবং এর পিছনে কোনও পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
  • Link to this news (আজকাল)