রুবি স্কাইওয়াক থেকে বাইপাস ফ্লাইওভার, কলকাতার ৩ মেগা প্রকল্প নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে KMDA
আজ তক | ১৬ মে ২০২৬
সরকার বদলের পর দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প ঘিরে ফের আশার আলো দেখা যাচ্ছে। উড়ালসেতু থেকে স্কাইওয়াক, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার যানজট কমাতে পরিকল্পিত বেশ কয়েকটি প্রকল্প নতুন করে বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আধিকারিকরা নতুন নগরোন্নয়ন দপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তাব তৈরি করতে শুরু করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব রেখেছেন।
ইএম বাইপাসে নতুন উড়ালপুল পরিকল্পনা
সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ইএম বাইপাস থেকে সেক্টর ৫ ও নিউ টাউনের যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে একটি দীর্ঘ উড়ালসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন মোড় থেকে মহিষবাথান পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের উড়ালসেতু তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উড়ালসেতুটি চিংড়িঘাটা মোড় থেকে বাঁক নিয়ে সল্টলেক বাইপাস ও সেক্টর ৫-এর রিং রোডের উপর দিয়ে এগিয়ে যেত। পাশাপাশি নলবান, কলেজ মোড় এবং সেক্টর ৫-এর বিভিন্ন অংশে ওঠানামার জন্য একাধিক র্যাম্প তৈরিরও পরিকল্পনা ছিল। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিলোমিটার হওয়ার কথা।
ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকার উপর দিয়ে সেতুর কিছু অংশ যাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অনুমোদনও আগেই নেওয়া হয়েছিল। এমনকি নির্মাণের জন্য দরপত্রও ডাকা হয়েছিল এবং একমাত্র দরদাতা হিসেবে অংশ নেয় লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো। তবে তহবিলের অভাবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি থমকে যায়।
রুবি মোড়ে স্কাইওয়াকের পরিকল্পনা
ইএম বাইপাসের অন্যতম ব্যস্ত রুবি মোড়ে একটি আধুনিক স্কাইওয়াক তৈরির প্রস্তাবও ফের আলোচনায় এসেছে। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পথচারী ও মেট্রো যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কাইওয়াকটি এমনভাবে নির্মাণ করার কথা ছিল যাতে তা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মেট্রো স্টেশনের কনকোর্সের সমান উচ্চতায় থাকে এবং যাত্রীরা রাস্তা না পেরিয়েই মোড়ের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছতে পারেন।
বৃত্তাকার এই স্কাইওয়াকের জন্য চারটি র্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ইএম বাইপাসের দুই পাশে, আনন্দপুরের দিকে এবং গড়িয়াহাটমুখী অংশে। ২০২১ সালেই এই প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট ও পুলিশি ছাড়পত্র তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আর্থিক কারণে সেটিও আটকে যায়।
জীবনানন্দ সেতুর পাশে নতুন সেতু
যাদবপুরের জীবনানন্দ সেতুর যানজটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্তমানে দুই লেনের এই সেতু দিয়ে বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে, ফলে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এই সমস্যা সমাধানে বর্তমান সেতুর পাশেই আরও একটি সমান্তরাল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নতুন সেতুটির দৈর্ঘ্যও প্রায় ৬০০ মিটার হওয়ার কথা ছিল। ২০১৯ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এরপর আর প্রকল্পটি এগোয়নি।
এখন প্রশাসনিক মহলের ধারণা, সরকার পরিবর্তনের পর এই সমস্ত প্রকল্প ফের গতি পেতে পারে। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট অনেকটাই কমবে এবং নগর পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।