দেশে পেট্রল-ডিজেলের সংকট কাটাতে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের কী অবস্থা, সেটা নিয়ে নানাবিধ গুজব-জল্পনা এবং আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এসবের মধ্যেই ডিজেল এবং বিমানের জ্বালানির রপ্তানি কর কমিয়ে দিল কেন্দ্র। তবে একই সঙ্গে বাড়ানো হল পেট্রলের রপ্তানি কর।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার থেকে ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির (অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল) উপর রপ্তানি কর অনেকটা কমছে। বাড়ছে পেট্রলের উপর রপ্তানি কর। অর্থ মন্ত্রক থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, আগে ডিজেলে রপ্তানি ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে শুল্ক ছিল ২৩ টাকা। তা কমিয়ে ১৬.৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। বিমান জ্বালানির প্রতি লিটারে রপ্তানি শুল্ক ছিল ৩৩ টাকা। তা কমিয়ে করা হয়েছে ১৬ টাকা। তবে পেট্রলে শুল্ক তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে। এবার থেকে পেট্রলে রপ্তানি শুল্ক ১৬.৫ টাকা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট। একাধিক দেশে বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। সম্ভবত নির্বাচনের কথা ভেবেই প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর পথটা এড়িয়ে চলা হচ্ছিল। কিন্তু ভোটপর্ব মেটার পর শুক্রবার থেকেই ভারতের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কলকাতায় পেট্রলের নতুন দাম লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা। ডিজেলের দাম লিটারপিছু তিন টাকা বেড়ে ৯৫.১৩তে পৌঁছে গিয়েছে। বেড়ে গিয়েছে সিএনজির দামও। প্রতি কেজি ২ টাকা করে বেড়েছে গ্যাসের দাম।
প্রশ্ন উঠছে দেশের অন্দরেই যখন পেট্রোলিয়াম সংকট তখন রপ্তানি শুল্ক কমিয়ে আরও বেশি করে পেট্রোপণ্য রপ্তানিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না তো? যদিও সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধুই ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য নেওয়া। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে লাগাতার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির জেরে এই সংস্থাগুলিকে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।