ফল দিয়ে আরাধনা, বিশেষ ভোগ, ফলহারিণী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভক্তের ঢল
প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
আজ ফলহারিণী অমাবস্যা। শনিবার সকাল থেকেই তারাপীঠে সাজ সাজ রব। ফল দিয়ে তারা মায়ের আরাধনা করছেন ভক্তরা। তাঁদের একটাই প্রার্থনা, ‘মা তুমি আমার কুফল নিয়ে সুফল দাও।’ তবে বিশেষ পুজো হবে রাতে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা মন্দির চত্বর।
জৈষ্ঠ্য মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই অমাবস্যা তিথিতেই হয় ফলহারিণী কালীপুজো। মা চতুর্ভুজা দিগম্বরী দেবী। ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, এলোকেশী, ভীষণরূপা। অথচ তাঁর কাছেই জগতের সমস্ত শান্তি বিরাজ করে। তিনিই মাতৃস্বরূপা দেবী কালী। ভক্তের প্রতি তাঁর আশীর্বাদ সর্বদা বর্ষিত হয়। অন্যান্য অমাবস্যাগুলির মতো এই তিথিরও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কথিত আছে, এইদিন স্বয়ং দেবী ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করার জন্য ধরাধামে অবতীর্ণ হন। যদিও ভক্তের চোখে তিনি সদা বিরাজমানা। তাঁর প্রকাশ সর্বত্রই। তবু ফলহারিণী অমাবস্যায় বিশেষ নিয়ম মানলে সুখশান্তি আসে জীবনে।
এদিন দেবীকে মরশুমি ফল দিয়ে সাজানো হয়। ভক্তরা পাঁচটি বা ন’টি ফল দিয়ে পুজো দিয়েছেন। রাতে মায়ের মুকুট থেকে গলার মালা সবটাই হয়েছে ফলের। সকাল থেকেই ‘জয় মা তারা, জয় মা তারা’ ধ্বনিতে মুখরিত মায়ের মন্দির। এই অমাবস্যা তিথিতে মা তারাকে দু’বার অন্নভোগ দেওয়া হয়। বিশেষ তিথিতে দুপুরে মা তারাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হবে। অন্যান্য দিনের মতোই ভাত, ডাল, সবজি, পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, পাঁচ রকম মিষ্টি, পায়েস ও শোল মাছ পোড়া নিবেদন করা হবে।
পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংসও মা তারার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। মন্দির কমিটির সেবাইত গোলক মহারাজ বলেন, “আজ তারাপীঠ মন্দিরে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে। বেলা যত গড়াচ্ছে ভক্ত সমাগম আরও বাড়ছে। মা তারাকে এদিন বিশেষ ফল দিয়ে পুজো করা হয়। দুপুরে মা তারাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হবে। যতক্ষণ তারাপীঠ মন্দিরে ভক্ত থাকবে, ততক্ষণ মন্দির খোলা রাখা হবে। কোন ভক্তকেই আজ মায়ের দর্শন না করে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।” যাতে প্রত্যেকে সুষ্ঠভাবে পুজো দিতে পারেন তাই মন্দির কমিটি এবং তারামাতা সেবাইত সংঘ থেকে পুলিশ, প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সকলেই সতর্ক।